সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

কর্তার ভূত গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?

কর্তার ভূত  গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?

 

প্রশ্ন :-  "কর্তার ভূত " গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?


উত্তর :- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " লিপিকা " গ্রন্থের অন্তর্গত "কর্তার ভূত " গল্পে ভূত শাসন তন্ত্রে নায়েব গমোস্থারা মৃত কর্তার অশরীরী অসিস্তত্তের ভয় দেখিয়ে শোষণ পীড়নের প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যায় । তাদের চেতনা ও বিচার বুদ্ধি নিরুপদ্রব ঘুমের শান্তিতে অসারে শায়িত থাকে । এই সুযোগে বহিরাগত বুলবুলি , বর্গী ও ভূতের পেয়াদারা এসে শোষণ পীড়ন চালায় মানুষের ওপর । এই শোষণ পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোকে তাত্ত্বিকেরা অন্যায় বলে বিধান দেয় । সেই জন্যে প্রতিবাদীরা ভূতের কানমলা খায় । মানুষের অসচেতনতা , অজ্ঞতাই এই তাত্ত্বিকদের কাছে কাঙ্ক্ষিত । ভূত শাসন তন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্র শক্তি দুটি কৌশল নিরন্তর চালু রাখে -

ক) তাত্ত্বিকদের দ্বারা অজ্ঞানতার দর্শন প্রচার ।

খ) ভূতুড়ে জেলখানার ভয় দেখানো ।

[  ] যারা প্রতিবাদী , প্রশ্নকারী , বিদ্রোহী তাদের স্থান হয় ভূতুড়ে জেলখানায় । সেই জেলখানার দারোগা স্বয়ং নায়েব । দেওয়াল বিহীন জেলখানার ঘানিতে তাদের তেজ বা শক্তি বের করে শান্ত করে রাখা হয় । তিনি গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চালিয়ে পীড়ন বে ব্যাবস্থাকে অদৃশ্য রাখতে সদা তৎপর থাকেন । প্রকৃত পক্ষে জেলখানা হল সংশোধনাগার । দেশের শান্তি ও নিরপত্তা রক্ষায় অপারাধিদের রাখার স্থান। কিন্তু ভূতুড়ে জেলখানা মানুষের তেজ বের করে অচলায়তনের  বাঁধা গতে আবদ্ধ রাখার কৌশল মাত্র । এ খানে অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , সাস্থ্য না থাকলেও এর ফলে দেশ জুড়ে শান্তি বজায় থাকে । এভাবেই তীব্র শ্লেষ পূর্ন ভাষায় লেখক " কর্তার ভূত " গল্পে বর্ণিত জেলখানার বর্ণনা করেছেন ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

/>