বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

ভাত MCQ প্রশ্ন ও উত্তর


hs-vat-golpo-mcq-questions-answer



Free Fire Dimond TopUp Click Here

:· উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা গল্প ভাত গল্পের কিছু MCQ প্রশ্ন ও  দেওয়া হলো ।


১) বড়ো বাড়ির বড়ো বউ–এর প্রথম থেকেই ভালো লাগেনি বাড়িতে কাজ করতে আসা লোকটার ?
ক) চলাফেরা
খ) ভাবভঙ্গি
গ) চাহনি
ঘ) কথাবার্তা

উত্তর :– চাহনি

২)" কিরকম যেন – চাহনি ।"
ক)অন্যরকম
খ)উগ্র
গ)প্রখর
ঘ)বিচ্ছিরি

উত্তর :– উগ্র

৩)" কিন্তু – বলল , ভাত খাবে কাজ করবে " ?
ক) বুড়ো কর্তা
খ) বড়ো পিসিমা
গ)মেজো বউ
ঘ) বামুন ঠাকুর

উত্তর :– বড়ো পিসিমা

৪) "এ – সব কিছুই চলে বড়ো পিসিমার নিয়মে ।"
ক)সংসার
 খ) বাড়িতে
গ) পরিবারে
ঘ)সমাজে

উত্তর :– সংসার

৫)" এই – দফায় কাজ করবে, পেটে দুটো খাবে বই তো নয় ?
ক)  দশ
খ)বারো
গ) ষোলো
ঘ) চোদ্দ

উত্তর :– চোদ্দ


৬) কেনা চাল নয় , – থেকে চাল আসছে  ?
ক) বাদা
খ) খেত
গ) জমি
ঘ) গোলা

উত্তর :– বাদা

৭) বড়ো বাড়ির বৃদ্ধ মরতে বসেছে বলে বড়ো বাড়িতে কী হচ্ছিল  ?
ক) পুজো আচ্চা
খ) হোম যোগি
গ) শান্তি
ঘ) ডাক্তার বদ্দি

উত্তর :– হোম যোগি

৮) তার শশুরই মরতে বসেচেন । শশুরের বয়স্ হয়েছিল ?
ক) আটাতর
খ) আশি
গ) বিরাশি
ঘ) পঁচাশি

উত্তর :– বিরাশি

৯) ভাত গল্পে মুমুষ বৃদ্ধের স্ত্রীকে ভালো মন্দ রান্না করে খাওয়া ছিল ?
ক)  বাসিনী
খ) বামুন ঠাকুর
 গ)বড়ো বউ
ঘ) মেজো বউ

উত্তর :– মেজো বউ

১০) বড়ো বউ যখন বুড়ো কর্তার ঘরে গিয়েছিল , তখন সে ঘরে আর কে ছিল ?
ক) বড়ো পিসিমা
খ)  বউ
গ) বাসিনী
ঘ) নার্স

উত্তর :– নার্স


১১) সে একটু বসলে পরে – এসে চা খেয়ে যাবে ?
ক)নার্স
খ) বড়ো পিসিমা
গ) বাসিনী
ঘ) মেজো বউ

উত্তর :– নার্স

১২) তার আসার কথা ওঠেনা  – কার ?
ক) বড়ো ছেলে
খ) মেজো ছেলে
গ) সেজো ছেলে
ঘ) ছোটো ছেলে

উত্তর :– সেজো ছেলে

১৩) ভাত গল্পের বড়ো বাড়ির ছেলেরা সকাল ক–টার আগে ঘুম থেকে উঠে না ?
ক) আটটায়
খ) ন ' টায়
গ) দশটায়
ঘ) এগারোটায়

উত্তর :– এগারোটায়

১৪) ভাত গল্পের বুড়ো কর্তা দের কতগুলি দেবত্র বাড়ি ছিল ?
ক) আট টা
খ) আঠারো টা
গ) বাড়ো টা
ঘ) ষোলো টা

উত্তর :– আঠারো টা

১৫) বাদা অঞ্চলে – জমি থাকলে কাজ বা করে কে ?
ক) অসাগর
খ) দোফসলী
গ) তিন ফসলি
ঘ) উবর

উত্তর :– অসাগর


১৬) – বলে দিয়েছে বলেই তো আজ এই হোম যজ্ঞ হচ্ছে ?
ক) ছেলেরা
খ) ডাক্তাররা
গ) পুরোহিতরা
ঘ) বড়ো পিসিমা

উত্তর :– ডাক্তাররা

১৭) কার বাবা তান্ত্রিক এনেছিলেন ?
ক) বড়ো বউ – এর
খ) মেজো বউ– এর
গ) সেজো বউ–এর
ঘ) ছোটো বউ–এর

উত্তর :– ছোটো বউ–এর

১৮) কালো বিড়ালের লোম আনতে যে গিয়েছিল , তার নাম  ?
ক) স্বপন
খ) বিমল
গ) ভজন
ঘ) দীপেন

উত্তর :– ভজন

১৯) ভাত গল্পে যজ্ঞের জন্যে কথা থেকে বালি আনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ?
ক) নদী
খ) সমুদ্র
গ) শশান
ঘ) কবর খানা

উত্তর :– শশান

২০) এমন সময়ে – জল বাতাসের চাবুকে ছটফটিয়ে উঠে এসেছিল ?
ক) গঙ্গার
খ) মাতলার
গ) নদীর
 ঘ) সাগরের

উত্তর :– মাতলার




২১) তোরেও তো টেনে নেছেল । বক্তা কে ?
ক) বাসিনী
খ) সাধন
গ) ভজন
ঘ) সতীশ

উত্তর :– সাধন

২২) উচ্ছবের বাবার নাম ছিল  ?
ক) সাধন
খ) ভজন
গ) সতীশ
 ঘ) হরিচরণ

উত্তর :– হরিচরণ

২৩) উচ্ছবদের অঞ্চলে পুরোহিত ছিল –?
ক) সাধন
খ) ভজন
গ) হরিচরণ
ঘ) মহানাম

উত্তর :– মহানাম

২৪) বড়ো বাড়ির মন্দিরের মাথায় যে ত্রিশূল টা ছিল, তা ছিল – ?
ক) সোনার
খ) রুপোর
গ) স্টিলের
ঘ) পেতলের

উত্তর :– পেতলের

২৫) বাসিনী উচ্ছব কে লুকিয়ে কী খেতে দিয়েছিল ?
ক) চিরে
খ) মুড়ি
গ) খই
ঘ) ছাতু

উত্তর :– ছাতু


২৬) অন্ন লক্ষী এ কথা টা উচ্ছবকে কে বলত ?
ক) তার বাবা
খ) তার মা
গ) তার দাদা
ঘ) তার ঠাকুমা

উত্তর :– তার ঠাকুমা

২৭) ভাত গল্পের বুড়ো কর্তার মৃত্যু হয়েছিল কত বছর বয়সে ?
ক) আটাতর
খ) আশি
গ) বিরাশি
ঘ) চুরাশি

উত্তর :– বিরাশি

২৮) সকালে লোকজন উচ্ছবকে সেখানেই ধরে ফেলে । জায়গাটি হলো –?
ক) রাস্তায়
খ) পার্কে
গ) ট্রেনে
 ঘ)  প্লাটফর্মে

উত্তর :– প্লাটফর্মে

২৯) কোথায় যাওয়া ট্রেনে উঠে বসার কথা ভেবেছিল উচ্ছব ?
ক) খিকান্ত পুর
খ) কানিং
গ) ডায়মন্ড হারবার
ঘ) লক্ষীকান্ত পুর

উত্তর :– কানিং

৩০)বুড়ো কর্তার কত বছর বেঁচে থাকার কথা ছিল বলে বড়ো পিসিমা জানিয়েছিলেন ?
ক) একশ বছর
খ)  বিরান্নবই বছর
গ) আটানব্বই বছর
ঘ) সাতাশি বছর

উত্তর :– আটানব্বই বছর


৩১) ভাত গল্প টি প্রকাশিত হয়েছিল কোন প্রত্রিকায় ?
ক) কল্লোল
খ) আনন্দ বাজার
গ) মেনিফেস্টো
 ঘ) আজকাল

উত্তর :– মেনিফেস্টো

৩২) উনি হলেন দেবতার সেবিকা । উনি বলতে যার কথা বলা হয়েছে  ?
ক) বড়ো বউ
খ) বড়ো পিসিমা
গ) চ্ন্নুনির মা
ঘ) টুনুর মা

উত্তর :– বড়ো পিসিমা

৩৩)বড়ো বাড়িতে – মন্দিরও আছে একটা ?
ক) লক্ষী
খ) দুর্গা
গ)  শিব
ঘ) কালী

উত্তর :– শিব

৩৪) বামুন চাকর ঝি দের জন্য – চাল ?
ক) ঝিঙেশাল
খ) রামশাল
গ) পদ্মজালি
ঘ) মোটা সাপটা

উত্তর :– মোটা সাপটা

৩৫) চিরকালই উচ্ছব যে নামে পরিচিত ।
ক) জেলে
খ) ভিখিরি
গ)  নাইয়া
ঘ) বদমাশ

উত্তর :– নাইয়া

৩৬) হোম - যজ্ঞ হচ্ছে । হোম যজ্ঞের জন্য আনা হয়েছিল  ?
ক) বেল, বেলকাঠ, ধুনো,বাতাসা,
খ) আম,বেল, জাম, কেওড়া গাছের কাঠ
গ) বেল, বট, অ্শ্বস্থ , আম গাছের কাঠ
ঘ) বেল, কেওরা, অ্শ্বস্থ, বট, তেতুঁল কাঠ

উত্তর :– বেল, কেওরা, অ্শ্বস্থ, বট, তেতুঁল কাঠ

৩৭) নিরামিষ তরকারির সঙ্গে যে – চালের ভাত খাওয়া হত , তা হলো  ?
ক) কনক পানি
খ)  রামশাল
গ) পদ্মজালি
ঘ)  ঝিঙেশাল

উত্তর :– ঝিঙেশাল

৩৮) উচ্ছবের গ্রাম – সম্পর্কিত বোনের নাম ?
ক) চ্ন্নুনি
খ) লক্ষী
গ) টুনু
ঘ) বাসিনী

উত্তর :– বাসিনী

৩৯) বড়ো বাড়িতে মাছের সঙ্গে যে চালের ভাত খাওয়া হয় , তা হলো – ?
ক) ঝিঙেশাল
খ) পদ্মজালি
গ) রামশাল
ঘ) কনকপানি

উত্তর :– রামশাল

৪০)মন্দিরের চাতালে কত গুলি ছেলে তাস খেলছিল ?
ক) দুজন
খ) তিনজন
গ) চারজন
ঘ) পাঁচজন

উত্তর :– তিনজন

৪১) যজ্ঞের জন্য উচ্ছব কাঠগুলো কাটছিল কত হাত লম্বা করে ?
ক) দেড়
খ) দুই
গ) আড়াই
ঘ) তিন

উত্তর :– দেড়

৪২) বুড়ো কর্তার মৃতদেহ সৎ কারে নিয়ে যাওয়া হয় – ?
ক) রাত একটার পর
খ) রাত বারোটার পর
গ) রাত নটার পর
 ঘ) রাত দু–টোর পর

উত্তর :– রাত একটার পর

৪৩) পদ্মজালি চাল রান্না হয় ?
ক) বড়োবাবুর জন্য
খ)  মেজো আর ছোটবাবুর জন্য
গ)  বামুন , চাকর, ঝিদের জন্য
ঘ) বাড়ির বউ দের জন্য

উত্তর :– বড়োবাবুর জন্য

৪৪)রাস্তার দোকান থেকে চা আসতে থাকে । কারন ?
ক)  বাড়িতে চায়ের ব্যাবস্থা ছিল না
খ)  বাড়িতে চা করার মতো কেউ ছিল না
গ)  বাড়িতে উনুন জ্বলবে না
ঘ)  বাড়িতে সবাই কাজে ব্যাস্ত

উত্তর :– বাড়িতে উনুন জ্বলবে না




/>

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম " - আমি কে ? কি বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে ? নানা রঙ্গের দিন নাটকের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

ami-sposhto-bujhte-parlam-ami-ke-ki-bujhte-parar-kotha-bola-hoyeche

১) " আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম " - আমি কে ? কি বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে ? 

উত্তর :- গণনাট্য আন্দোলনের নাট্য কার রূপে পরিচিত অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় রুশ নাট্যকার চেকভের  "Swan Song  " নামক  একাঙ্ক নাটকটির অনুকরণে রচনা করেন " নানা রঙ্গের দিন " নামক নাটকটি । যেখানে রজনী নামক একজন বৃদ্ধ অভিনেতা একাকী শূন্য মঞ্চে দাড়িয়ে গভীর রাতের অন্ধকারে জীবনের ফেলে আসা দিন গুলির স্মৃতিচারণা করেছেন ।

[ ] প্রায় আটষট্টিটা বছর পার করে এসেছেন তিনি , জীবনের শেষ বেলায় অনুভব করতে পেরেছেন নিজের জীবনের একাকীত্ব । যৌবন বয়সে যখন দর্শকদের হাততালি , তাদের অভিবাদন তাকে  মুগ্ধ করেছিল  তখন অভিনয় জগৎ ছাড়া অন্য সব কিছুকে তিনি খুব সহজেই অবহেলা করেছেন । কিন্তু সময় থেমে থাকেনি । সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অভিনেতা রজনীকান্ত  চাট্টুজ্জে মূল অভিনেতার পাশাপাশি পার্শ্ব অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন । বহু দর্শক যারা এক সময় তাঁকে মাথায়  করে রাখত পরবর্তী কালে তারাই সমালোচনা করতে শুরু করেছিল । তাদের মতে এই সব অভিনয় দেখেই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু প্রতিভার তো অপমৃত্যু হয় না । তাই বারবার রজনীকান্তের শিল্পী সত্তা হাহাকার  করে উঠে ফেলে আসা  দিন গুলিকে ভুলতে না পেরে ।

[ ] রজনীকান্তের বাহিক চেহারার পরিবর্তন হয়েছে , গলার কাজ নষ্ট হয়েছে , চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতাও ধীরে ধীরে ম্লান  হয়েছে কিন্তু তবুও বাঁধক্য উপনীত রজনীকান্ত ফেলে আসা দিন গুলিকে ভুলতে পারে না । বুঝতে পারছেন দর্শক তাকে আর চায় না । কিন্তু তবুও শিল্পী সত্তার মৃত্যু হয় না জেনেই রাতের পর রাত ফাঁকা মঞ্চে অভিনয় করেছেন ।

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করা।

ke-banchai-ke-banche-golpoti-nam-koroner-sarthokorta-bichar-koro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় পঞ্চাশের মন্বন্তর কালে অফিস যাওয়ার পথে একদিন ফুটপাতে অনাহারে মৃত্যুর এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী হয়।এই দৃশ্য দেখে সে এতটাই আঘাত পায় এবং অপরাধবোধের দিন্য   হয়ে পড়ে যে , তারপর থেকে ভালো করে খেতে ও ঘুমোতে পারে  না আদর্শবাদী  যুবকটি তাই সস্ত্রীক এক বেলা খাওয়া কমিয়ে সেই খাবার অনাহারীদের বিলোতে  শুরু করে ।
পুরো মাইনে টা সে সহকর্মী বন্ধু নিখিল এর মাধ্যমে ত্রাণ তহবিলে দান করে ।  শহরের ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় পরিবার, পেশা  ও সমাজকে ত্যাগ করে এইসব না খেতে পাওয়া মানুষদেরই  একজন হয়ে যায় ।  ছেড়া ন্যাকড়া পড়ে, মুখ ভর্তি দাড়ি  নিয়ে মগ হাতে লঙ্গরখানায় মারামারি করে খেচুরি খায় আর  ফুটপাতে পড়ে থাকে সে ।


নিজের সর্বস্ব দিয়ে ও দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হতাশ হয়ে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে এতে নিজে যেমন প্রকৃত ভাবে   বাঁচতে পারেনি , তেমনি অনাহারী দেরও বাঁচাতে পারেনি।  তাই এ গল্পের শিরোনামের মধ্য দিয়ে লেখক ' ভুল সর্গ - এর অধিবাসী এ গল্পের মুখ্য চরিত্রের ঘটন মূলক সমালোচনা করে এর নামকরণের সার্থক করে তুলেছে ।
/>

কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র পর্যালোচনা করা ?

mritunjoyer-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় একজন সৎ মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী । নিরীহ, শান্ত, দরদি , ভালো, মানুষ এই যুবকটি চারপাশের মধ্যে এখনো বুকের  ভেতরে পুষে রাখে আদর্শবাদের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্য ।

মৃত্যুঞ্জয় একদিন অফিস যাওয়ার পথে আকমক্ষিকভাবে দেখে ফেলে   ফুটপাতের অনাহারে মৃত্যুর দৃশ্য।দুর্ভিক্ষের সময় এমন দৃশ্য খুব স্বাভাবিক হলেও আবেগপ্রবণ মৃত্যুঞ্জয় এই দৃশ্যে দেখে  প্রচন্ড আঘাত পায়। তারপর থেকে সে ক্রমে ক্রমে  ভিতরে-বাইরে পাল্টে দিতে শুরু করে। অপরাধবোধে  সস্ত্রীক  মৃত্যুঞ্জয় এক বেলা না খেয়ে সে খাবার বিলিয়ে দেই দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  মধ্যে। এমনকি মাসের  পুরো মাইনেটা সে ত্রাণ তহবিলে দান করে দেয় ।  কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারে যে যথা সর্বস্ব দান করলেও অনাহারী মানুষগুলো কিছু মাত্র ভালো করতে পারবে না সে এরপর তাই সে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে  ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তাদেরই একজন হয়ে যায় । অফিসে এবং তারপর বাড়িতে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় সে । ছেড়া ন্যাকড়া পরে খালি গায়ে শেষ সে অনাহারীদের সঙ্গে ফুটপাতে পড়ে থাকে এবং লঙ্গরখানার  খিচুড়ি কারাকারি করে খেতে শুরু করে ।


সুতরাং , মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষদেরপ্রতিবাদে, প্রতিরোধ বা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলেও   সে যে মধ্যবিত্তের খোলস ত্যাগ  করে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিলীন হতে পেরেছে এটাও  কম কৃতিত্বের নয় ।

'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্পের টুনুর মা চরিত্রটি পর্যালোচনা কর ?

tunur-ma-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়ের স্বামী অন্ত প্রাণ সহধর্মিনী হলো মমতাময়ী নারী টুনুর মা। নামহীন এই চরিত্রটি শারীরিকভাবে শির্না ও রোগা হলেও মন্বন্তরের বীভৎসতায় নিজের  পরিবার  সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যাওয়া স্বামীর  অস্থিরতাকে সে কেবল মেনে নেইনি, মনেও  নিয়েছে। সে যে তার স্বামীকে ভালোবাসতো এবং তার আদর্শকে সম্মান করতো তা ই  নয় । সে নিজেও ছিল  উদার  হৃদয় এবং মমতাময়ী ।
শয্যাশায়ী অবস্থায় সে বারবার নিজের স্বামীর খোঁজ খবর করেছে, স্বামীর সহকর্মী বন্ধু  নিখিল কেউ সকাতর অনুরোধ করেছে তার স্বামীর খেয়াল রাখতে সঙ্গে থাকতে । দুই-তিনবার সে স্বামীর ফুটপাথে দুর্ভিক্ষ পীড়িত অনাহার মানুষগুলোকে দেখে বেড়ানোর সঙ্গী ও  হয়েছে । নিখিল কে সে জানায় উঠতে পারলে আমি তো  সঙ্গে ঘুরতাম ঠাকুরপো। মৃত্যুঞ্জয় এর ব্যাপারে টুনুর মা আরও জানিয়েছেন একেবারে মুষরে ছেড়ে যাচ্ছেন দিনকে দিন।

নিখিল কে সে বলেছে , উনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন আমারও মনে হচ্ছে যেন পাগল হয়ে যাব। ছেলে মেয়ে গুলির জন্য সত্যিই আমার ভাবনা হয় না। কেবলই মনে পড়ে ফুটপাতের ওই লোক গুলির  কথা। এভাবেই মৃত্যুঞ্জয় আদর্শবাদের সঙ্গী হয়ে যায় টুনুর  মা।
সুতরাং, টুনুর মা  এ  গল্পের প্রধান চরিত্র হলেও গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়কে উজ্জ্বল করে তুলে ধরার এই চরিত্রটি  ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে ।
/>