বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম " - আমি কে ? কি বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে ? নানা রঙ্গের দিন নাটকের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

ami-sposhto-bujhte-parlam-ami-ke-ki-bujhte-parar-kotha-bola-hoyeche

১) " আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম " - আমি কে ? কি বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে ? 

উত্তর :- গণনাট্য আন্দোলনের নাট্য কার রূপে পরিচিত অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় রুশ নাট্যকার চেকভের  "Swan Song  " নামক  একাঙ্ক নাটকটির অনুকরণে রচনা করেন " নানা রঙ্গের দিন " নামক নাটকটি । যেখানে রজনী নামক একজন বৃদ্ধ অভিনেতা একাকী শূন্য মঞ্চে দাড়িয়ে গভীর রাতের অন্ধকারে জীবনের ফেলে আসা দিন গুলির স্মৃতিচারণা করেছেন ।

[ ] প্রায় আটষট্টিটা বছর পার করে এসেছেন তিনি , জীবনের শেষ বেলায় অনুভব করতে পেরেছেন নিজের জীবনের একাকীত্ব । যৌবন বয়সে যখন দর্শকদের হাততালি , তাদের অভিবাদন তাকে  মুগ্ধ করেছিল  তখন অভিনয় জগৎ ছাড়া অন্য সব কিছুকে তিনি খুব সহজেই অবহেলা করেছেন । কিন্তু সময় থেমে থাকেনি । সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অভিনেতা রজনীকান্ত  চাট্টুজ্জে মূল অভিনেতার পাশাপাশি পার্শ্ব অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন । বহু দর্শক যারা এক সময় তাঁকে মাথায়  করে রাখত পরবর্তী কালে তারাই সমালোচনা করতে শুরু করেছিল । তাদের মতে এই সব অভিনয় দেখেই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু প্রতিভার তো অপমৃত্যু হয় না । তাই বারবার রজনীকান্তের শিল্পী সত্তা হাহাকার  করে উঠে ফেলে আসা  দিন গুলিকে ভুলতে না পেরে ।

[ ] রজনীকান্তের বাহিক চেহারার পরিবর্তন হয়েছে , গলার কাজ নষ্ট হয়েছে , চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতাও ধীরে ধীরে ম্লান  হয়েছে কিন্তু তবুও বাঁধক্য উপনীত রজনীকান্ত ফেলে আসা দিন গুলিকে ভুলতে পারে না । বুঝতে পারছেন দর্শক তাকে আর চায় না । কিন্তু তবুও শিল্পী সত্তার মৃত্যু হয় না জেনেই রাতের পর রাত ফাঁকা মঞ্চে অভিনয় করেছেন ।

/>

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করা।

ke-banchai-ke-banche-golpoti-nam-koroner-sarthokorta-bichar-koro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় পঞ্চাশের মন্বন্তর কালে অফিস যাওয়ার পথে একদিন ফুটপাতে অনাহারে মৃত্যুর এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী হয়।এই দৃশ্য দেখে সে এতটাই আঘাত পায় এবং অপরাধবোধের দিন্য   হয়ে পড়ে যে , তারপর থেকে ভালো করে খেতে ও ঘুমোতে পারে  না আদর্শবাদী  যুবকটি তাই সস্ত্রীক এক বেলা খাওয়া কমিয়ে সেই খাবার অনাহারীদের বিলোতে  শুরু করে ।
পুরো মাইনে টা সে সহকর্মী বন্ধু নিখিল এর মাধ্যমে ত্রাণ তহবিলে দান করে ।  শহরের ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় পরিবার, পেশা  ও সমাজকে ত্যাগ করে এইসব না খেতে পাওয়া মানুষদেরই  একজন হয়ে যায় ।  ছেড়া ন্যাকড়া পড়ে, মুখ ভর্তি দাড়ি  নিয়ে মগ হাতে লঙ্গরখানায় মারামারি করে খেচুরি খায় আর  ফুটপাতে পড়ে থাকে সে ।


নিজের সর্বস্ব দিয়ে ও দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হতাশ হয়ে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে এতে নিজে যেমন প্রকৃত ভাবে   বাঁচতে পারেনি , তেমনি অনাহারী দেরও বাঁচাতে পারেনি।  তাই এ গল্পের শিরোনামের মধ্য দিয়ে লেখক ' ভুল সর্গ - এর অধিবাসী এ গল্পের মুখ্য চরিত্রের ঘটন মূলক সমালোচনা করে এর নামকরণের সার্থক করে তুলেছে ।

কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র পর্যালোচনা করা ?

mritunjoyer-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় একজন সৎ মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী । নিরীহ, শান্ত, দরদি , ভালো, মানুষ এই যুবকটি চারপাশের মধ্যে এখনো বুকের  ভেতরে পুষে রাখে আদর্শবাদের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্য ।

মৃত্যুঞ্জয় একদিন অফিস যাওয়ার পথে আকমক্ষিকভাবে দেখে ফেলে   ফুটপাতের অনাহারে মৃত্যুর দৃশ্য।দুর্ভিক্ষের সময় এমন দৃশ্য খুব স্বাভাবিক হলেও আবেগপ্রবণ মৃত্যুঞ্জয় এই দৃশ্যে দেখে  প্রচন্ড আঘাত পায়। তারপর থেকে সে ক্রমে ক্রমে  ভিতরে-বাইরে পাল্টে দিতে শুরু করে। অপরাধবোধে  সস্ত্রীক  মৃত্যুঞ্জয় এক বেলা না খেয়ে সে খাবার বিলিয়ে দেই দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  মধ্যে। এমনকি মাসের  পুরো মাইনেটা সে ত্রাণ তহবিলে দান করে দেয় ।  কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারে যে যথা সর্বস্ব দান করলেও অনাহারী মানুষগুলো কিছু মাত্র ভালো করতে পারবে না সে এরপর তাই সে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে  ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তাদেরই একজন হয়ে যায় । অফিসে এবং তারপর বাড়িতে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় সে । ছেড়া ন্যাকড়া পরে খালি গায়ে শেষ সে অনাহারীদের সঙ্গে ফুটপাতে পড়ে থাকে এবং লঙ্গরখানার  খিচুড়ি কারাকারি করে খেতে শুরু করে ।


সুতরাং , মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষদেরপ্রতিবাদে, প্রতিরোধ বা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলেও   সে যে মধ্যবিত্তের খোলস ত্যাগ  করে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিলীন হতে পেরেছে এটাও  কম কৃতিত্বের নয় ।

/>

'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্পের টুনুর মা চরিত্রটি পর্যালোচনা কর ?

tunur-ma-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়ের স্বামী অন্ত প্রাণ সহধর্মিনী হলো মমতাময়ী নারী টুনুর মা। নামহীন এই চরিত্রটি শারীরিকভাবে শির্না ও রোগা হলেও মন্বন্তরের বীভৎসতায় নিজের  পরিবার  সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যাওয়া স্বামীর  অস্থিরতাকে সে কেবল মেনে নেইনি, মনেও  নিয়েছে। সে যে তার স্বামীকে ভালোবাসতো এবং তার আদর্শকে সম্মান করতো তা ই  নয় । সে নিজেও ছিল  উদার  হৃদয় এবং মমতাময়ী ।
শয্যাশায়ী অবস্থায় সে বারবার নিজের স্বামীর খোঁজ খবর করেছে, স্বামীর সহকর্মী বন্ধু  নিখিল কেউ সকাতর অনুরোধ করেছে তার স্বামীর খেয়াল রাখতে সঙ্গে থাকতে । দুই-তিনবার সে স্বামীর ফুটপাথে দুর্ভিক্ষ পীড়িত অনাহার মানুষগুলোকে দেখে বেড়ানোর সঙ্গী ও  হয়েছে । নিখিল কে সে জানায় উঠতে পারলে আমি তো  সঙ্গে ঘুরতাম ঠাকুরপো। মৃত্যুঞ্জয় এর ব্যাপারে টুনুর মা আরও জানিয়েছেন একেবারে মুষরে ছেড়ে যাচ্ছেন দিনকে দিন।

নিখিল কে সে বলেছে , উনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন আমারও মনে হচ্ছে যেন পাগল হয়ে যাব। ছেলে মেয়ে গুলির জন্য সত্যিই আমার ভাবনা হয় না। কেবলই মনে পড়ে ফুটপাতের ওই লোক গুলির  কথা। এভাবেই মৃত্যুঞ্জয় আদর্শবাদের সঙ্গী হয়ে যায় টুনুর  মা।
সুতরাং, টুনুর মা  এ  গল্পের প্রধান চরিত্র হলেও গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়কে উজ্জ্বল করে তুলে ধরার এই চরিত্রটি  ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে ।

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোটগল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা কর ??

ke-bachai-ke-banche-golpo-nikhil-choritro-answer


উত্তর:-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের " কে বাঁচায় কে বাঁচে " ছোটগল্পের নায়ক  মৃত্যুঞ্জয় অফিসের সহকর্মী বন্ধু ছিল নিখিল । প্রখর বুদ্ধিমান এই রোগা যুবকটি ছিল কিছুটা অলস প্রকৃতির । দুই সন্তানের পিতা নিখিলের সংসারে বিশেষ  মন নেই বলে কেউ কেউ মনে করতেন। বইপত্র পড়ে এবং নিজের ভাবনার জগতে বিচরন করেই অবসর সময় কাটা তো এই অন্তর্মূখী যুবকটি।
অফিসের সহকর্মী বন্ধু মৃতুঞ্জয়ের  মাইনে নিখিলে থেকে সামান্য কিছু বেশি হলেও অন্য সকলের মতো নিখিল ও তাকে তাকে বেশ পছন্দ করত । হয়তো তাতে কিছুটা অবজ্ঞা মিশ্রিত ভালোবাসা জড়িয়ে থাকতো । তবে মৃত্যুঞ্জয়ের মানসিক শক্তির কাছে নিখিল কিছুটা যেন নিস্তেজ ছিল। মাঝে মাঝে তার এই ভেবে আফসোস হত রে সে চদি নিখিল না হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হত তাহলে মন্দ হত না । এর থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার সহকর্মী নিখিলের মৃদু ঈষার  পরিচয় ও পাওয়া যায়।

[   ] তবে নিখিল স্বার্থপর ছিলনা । প্রতিমাসে তিন জায়গায় তাকে অর্থ সাহায্য পাঠাতে দেখা যায়। তাছাড়া মৃত্যুঞ্জয় কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন ধরে সে সচেষ্ট থেকেছে, তার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছে এবং মৃত্যুঞ্জয় অফিসে যাওয়া বন্ধ করলে তার ছুটির ব্যবস্থা ও করেছে ।
হৃদয়বান , সামাজিক যুবক নিখিল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে   দুঃখি হলেও প্রিয় বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় মতো একেবারে ভেঙ্গে পড়েনি । তাছাড়া মাইনের  পুরো টাকাটা মৃত্যুঞ্জয় ত্রাণ তহবিলে দান করলে সে তার প্রতিবাদ করেছি এ কথা ভেবে যে এভাবে দেশের লোক কে বাঁচানো যায় না।   মৃত্যুঞ্জয়ের   পরিবারের প্রতি আন্তরিক ভাবনা ও তার কথায় প্রতিফলিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতোই সে এই যৌক্তিক কথা ই  নিজে না খাইয়া মারা বড় পাপ।


[    ]  সুতরাং,  চরিত্রের বিভিন্ন দিক গুলি পর্যালোচনা করে বলা যায় যে সে এ গল্পের হৃদয়বান এক বাস্তব বাদী  চরিত্র।

/>