শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোটগল্পের নিখিল চরিত্রটি পর্যালোচনা কর ??

ke-bachai-ke-banche-golpo-nikhil-choritro-answer


উত্তর:-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের " কে বাঁচায় কে বাঁচে " ছোটগল্পের নায়ক  মৃত্যুঞ্জয় অফিসের সহকর্মী বন্ধু ছিল নিখিল । প্রখর বুদ্ধিমান এই রোগা যুবকটি ছিল কিছুটা অলস প্রকৃতির । দুই সন্তানের পিতা নিখিলের সংসারে বিশেষ  মন নেই বলে কেউ কেউ মনে করতেন। বইপত্র পড়ে এবং নিজের ভাবনার জগতে বিচরন করেই অবসর সময় কাটা তো এই অন্তর্মূখী যুবকটি।
অফিসের সহকর্মী বন্ধু মৃতুঞ্জয়ের  মাইনে নিখিলে থেকে সামান্য কিছু বেশি হলেও অন্য সকলের মতো নিখিল ও তাকে তাকে বেশ পছন্দ করত । হয়তো তাতে কিছুটা অবজ্ঞা মিশ্রিত ভালোবাসা জড়িয়ে থাকতো । তবে মৃত্যুঞ্জয়ের মানসিক শক্তির কাছে নিখিল কিছুটা যেন নিস্তেজ ছিল। মাঝে মাঝে তার এই ভেবে আফসোস হত রে সে চদি নিখিল না হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হত তাহলে মন্দ হত না । এর থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার সহকর্মী নিখিলের মৃদু ঈষার  পরিচয় ও পাওয়া যায়।

[   ] তবে নিখিল স্বার্থপর ছিলনা । প্রতিমাসে তিন জায়গায় তাকে অর্থ সাহায্য পাঠাতে দেখা যায়। তাছাড়া মৃত্যুঞ্জয় কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন ধরে সে সচেষ্ট থেকেছে, তার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছে এবং মৃত্যুঞ্জয় অফিসে যাওয়া বন্ধ করলে তার ছুটির ব্যবস্থা ও করেছে ।
হৃদয়বান , সামাজিক যুবক নিখিল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে   দুঃখি হলেও প্রিয় বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় মতো একেবারে ভেঙ্গে পড়েনি । তাছাড়া মাইনের  পুরো টাকাটা মৃত্যুঞ্জয় ত্রাণ তহবিলে দান করলে সে তার প্রতিবাদ করেছি এ কথা ভেবে যে এভাবে দেশের লোক কে বাঁচানো যায় না।   মৃত্যুঞ্জয়ের   পরিবারের প্রতি আন্তরিক ভাবনা ও তার কথায় প্রতিফলিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতোই সে এই যৌক্তিক কথা ই  নিজে না খাইয়া মারা বড় পাপ।


[    ]  সুতরাং,  চরিত্রের বিভিন্ন দিক গুলি পর্যালোচনা করে বলা যায় যে সে এ গল্পের হৃদয়বান এক বাস্তব বাদী  চরিত্র।

'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্পের টুনুর মা চরিত্রটি পর্যালোচনা কর ?

tunur-ma-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয়ের স্বামী অন্ত প্রাণ সহধর্মিনী হলো মমতাময়ী নারী টুনুর মা। নামহীন এই চরিত্রটি শারীরিকভাবে শির্না ও রোগা হলেও মন্বন্তরের বীভৎসতায় নিজের  পরিবার  সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যাওয়া স্বামীর  অস্থিরতাকে সে কেবল মেনে নেইনি, মনেও  নিয়েছে। সে যে তার স্বামীকে ভালোবাসতো এবং তার আদর্শকে সম্মান করতো তা ই  নয় । সে নিজেও ছিল  উদার  হৃদয় এবং মমতাময়ী । শয্যাশায়ী অবস্থায় সে বারবার নিজের স্বামীর খোঁজ খবর করেছে, স্বামীর সহকর্মী বন্ধু  নিখিল কেউ সকাতর অনুরোধ করেছে তার স্বামীর খেয়াল রাখতে সঙ্গে থাকতে । দুই-তিনবার সে স্বামীর ফুটপাথে দুর্ভিক্ষ পীড়িত অনাহার মানুষগুলোকে দেখে বেড়ানোর সঙ্গী ও  হয়েছে । নিখিল কে সে জানায় উঠতে পারলে আমি তো  সঙ্গে ঘুরতাম ঠাকুরপো। মৃত্যুঞ্জয় এর ব্যাপারে টুনুর মা আরও জানিয়েছেন একেবারে মুষরে ছেড়ে যাচ্ছেন দিনকে দিন।
নিখিল কে সে বলেছে , উনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন আমারও মনে হচ্ছে যেন পাগল হয়ে যাব। ছেলে মেয়ে গুলির জন্য সত্যিই আমার ভাবনা হয় না। কেবলই মনে পড়ে ফুটপাতের ওই লোক গুলির  কথা। এভাবেই মৃত্যুঞ্জয় আদর্শবাদের সঙ্গী হয়ে যায় টুনুর  মা।
সুতরাং, টুনুর মা  এ  গল্পের প্রধান চরিত্র হলেও গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়কে উজ্জ্বল করে তুলে ধরার এই চরিত্রটি  ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে ।

কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র পর্যালোচনা করা ?

mritunjoyer-choritro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় একজন সৎ মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী । নিরীহ, শান্ত, দরদি , ভালো, মানুষ এই যুবকটি চারপাশের মধ্যে এখনো বুকের  ভেতরে পুষে রাখে আদর্শবাদের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্য ।
মৃত্যুঞ্জয় একদিন অফিস যাওয়ার পথে আকমক্ষিকভাবে দেখে ফেলে   ফুটপাতের অনাহারে মৃত্যুর দৃশ্য।দুর্ভিক্ষের সময় এমন দৃশ্য খুব স্বাভাবিক হলেও আবেগপ্রবণ মৃত্যুঞ্জয় এই দৃশ্যে দেখে  প্রচন্ড আঘাত পায়। তারপর থেকে সে ক্রমে ক্রমে  ভিতরে-বাইরে পাল্টে দিতে শুরু করে। অপরাধবোধে  সস্ত্রীক  মৃত্যুঞ্জয় এক বেলা না খেয়ে সে খাবার বিলিয়ে দেই দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  মধ্যে। এমনকি মাসের  পুরো মাইনেটা সে ত্রাণ তহবিলে দান করে দেয় ।  কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারে যে যথা সর্বস্ব দান করলেও অনাহারী মানুষগুলো কিছু মাত্র ভালো করতে পারবে না সে এরপর তাই সে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে  ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তাদেরই একজন হয়ে যায় । অফিসে এবং তারপর বাড়িতে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় সে । ছেড়া ন্যাকড়া পরে খালি গায়ে শেষ সে অনাহারীদের সঙ্গে ফুটপাতে পড়ে থাকে এবং লঙ্গরখানার  খিচুড়ি কারাকারি করে খেতে শুরু করে ।


সুতরাং , মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষদেরপ্রতিবাদে, প্রতিরোধ বা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলেও   সে যে মধ্যবিত্তের খোলস ত্যাগ  করে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিলীন হতে পেরেছে এটাও  কম কৃতিত্বের নয় ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করা।

ke-banchai-ke-banche-golpoti-nam-koroner-sarthokorta-bichar-koro-answer

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কে বাঁচায় কে বাঁচে ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় পঞ্চাশের মন্বন্তর কালে অফিস যাওয়ার পথে একদিন ফুটপাতে অনাহারে মৃত্যুর এক বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী হয়।এই দৃশ্য দেখে সে এতটাই আঘাত পায় এবং অপরাধবোধের দিন্য   হয়ে পড়ে যে , তারপর থেকে ভালো করে খেতে ও ঘুমোতে পারে  না আদর্শবাদী  যুবকটি তাই সস্ত্রীক এক বেলা খাওয়া কমিয়ে সেই খাবার অনাহারীদের বিলোতে  শুরু করে । এমনকি অফিসের পুরো মাইনে টা সে সহকর্মী বন্ধু নিখিল এর মাধ্যমে ত্রাণ তহবিলে দান করে ।  শহরের ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় পরিবার, পেশা  ও সমাজকে ত্যাগ করে এইসব না খেতে পাওয়া মানুষদেরই  একজন হয়ে যায় ।  ছেড়া ন্যাকড়া পড়ে, মুখ ভর্তি দাড়ি  নিয়ে মগ হাতে লঙ্গরখানায় মারামারি করে খেচুরি খায় আর  ফুটপাতে পড়ে থাকে সে ।


নিজের সর্বস্ব দিয়ে ও দুর্ভিক্ষপীড়িত দের  বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুঞ্জয় হতাশ হয়ে সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে এতে নিজে যেমন প্রকৃত ভাবে   বাঁচতে পারেনি , তেমনি অনাহারী দেরও বাঁচাতে পারেনি।  তাই এ গল্পের শিরোনামের মধ্য দিয়ে লেখক ' ভুল সর্গ - এর অধিবাসী এ গল্পের মুখ্য চরিত্রের ঘটন মূলক সমালোচনা করে এর নামকরণের সার্থক করে তুলেছে ।

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মহাত্মা গান্ধীজী জীবনী মূলক রচনা

mohatma-gandhi-biography

সমার্থক বিশেষিত নাম : মহাত্মা, মহাত্মা গান্ধী, বাপুজী, গান্ধিজী। ভারত নামক রাষ্ট্রের জনক হিসাবে স্বীকৃত।
১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২রা অক্টোবরে গুজরাটের সমুদ্র-উপকূলীয় শহরে পোরবন্দরের পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন হিন্দু মোধ গোষ্ঠীর। ইনি পোরবন্দর রাজ্যের দেওয়ান ছিলেন। মায়ের নাম পুতলি বাই। ইনি ছিলেন প্রণামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর কন্যা। পিতা করমচাঁদের চতুর্থ স্ত্রী। উল্লেখ্য এঁর আগের তিনজন স্ত্রী সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইনি তাঁর বাবা মায়ের পছন্দে ১৪ বৎসর বয়সী কস্তুর বাইকে বিয়ে করেন। এঁদের চার পুত্র সন্তান জন্মেছিল। এঁদের নাম ছিল যথাক্রমে– হরিলাল গান্ধী (জন্ম ১৮৮৮), মনিলাল গান্ধী (জন্ম ১৮৯২), রামদাস গান্ধী (জন্ম ১৮৯৭) এবং দেবদাস গান্ধী (জন্ম ১৯০০) সালে।
১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ইনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় (ম্যাট্রিকুলেশন ) পাশ করেন রাজকোট হাইস্কুল থেকে। এরপর কিছুদিন তিনি গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করেন। ১৮৮৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ইনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে ভর্তি হন। উল্লেখ্য ইংল্যান্ডে যাবার আগে জৈন সন্ন্যাসী বেচার্জীর সামনে তিনি তার মায়ের কাছে শপথ করেছিলেন যে, তিনি কখনো মাংস, মদ খাবেন না এবং হিন্দু নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে চলবেন। এই কারণে তিনি লন্ডনের গুটি কয়েক নিরামিষভোজী খাবারের দোকানে আহর করতেন। এই সূত্রে তিনি নিরামিষভোজী সংঘে যোগ দেন এবং ওই সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি এই সংঘের একটি স্থানীয় শাখাও প্রচলন করেন। নিরামিষভোজী অনেক সদস্যই আবার থিওসোফিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন। উল্লেখ্য ১৮৭৫ সালে এই সংঘটি স্থাপিত হয়েছিল। এই সংঘে বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মীভিত্তিক সাহিত্য পড়ানো হত। এই সংঘের অনুপ্ররণায় তিনি ভগবত গীতা পাঠ করেছিলেন। পরে তিনি খিষ্টান, বৌদ্ধ, ইসলামসহ অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা করেন।



১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে ব্যারিষ্টার হন এবং জুন মাসে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। ইতিমধ্যে দেশে ফিরে ইনি তাঁর মৃত্যু সংবাদ পান। ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করার জন্য, তাঁর জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কিছু লোক, তাঁকে জাতিচ্যুতের রায় দিয়েছিলেন। এ কারণে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।
প্রথমে ইনি বোম্বাই আদলতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু লাজুক থাকার কারণে ইনি এই আদালতে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেন নি। এরপর ইনি রাজকোটে ফিরে আসেন। ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে তিনি এক বছরের জন্য Dada Abdulla Co. নামক একটি ভারতীয় কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটালে যান। এই কোম্পানির অংশীদার আব্দুল করিম জাভেরি তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত অফিসের মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর প্রায় ২১ বৎসর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাতে কাটান।
তিনি নাটালের সুপ্রিম কোর্টে সর্বপ্রথম ভারতীয় আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। সেসময় দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভোটাধিকার ছিল না। এই অধিকার আদায়ের বিল উত্থাপিত হলে, তা আদালত বাতিল করে দেয়। এই বিষয়টির সূত্রে তিনি সে সেদেশের ভারতীয়দেরকে অধিকার সচেতন করে তুলেছিল। ১৮৯৪ সালে তাঁর নেতঋত্বে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১৮৯৫ দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে প্রথমেই তিনি ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শেতাঙ্গদের বৈষম্য আচরণ লক্ষ্য করেন। ১৮৯৫ সালে কিছু ঘটনায় তাঁকে ক্রমে ক্রমে প্রতিবাদী করে তোলে। এখানে তিনি একদিন ডারবানের আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট তার পাগড়ি সরিয়ে ফেলতে বলেন। গান্ধী তা অগ্রাহ্য করেন এবং এই কারণে আদালত কক্ষ থেকে ক্ষোভে বেরিয়ে পড়েন। পিটার ম্যারিজবার্গের একটি ট্রেনের ভ্রমণ করার সময় প্রথম শ্রেণীর বৈধ টিকিট থাকা স্বত্ত্বেও, প্রথম শ্রেণীর কামড়া থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কামড়ায় যেতে বাধ্য করা হয়। স্টেজকোচে ভ্রমণের সময় এক ইউরোপীয় যাত্রীকে জায়গা না দেওয়ার জন্য করে দেয়ার জন্য, তাঁকে ফুট বোর্ডে চড়তে বলা হলে, তিনি তা অস্বীকার করেনি।
১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সংক্ষিপ্ত সফর করেন। এই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের অধিকার নিয়ে ভারতে আন্দোলন করেন। এই কারণে ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে যখন তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আবার দক্ষিণ আফ্রিকা যান, তখন এই সময় প্রবাসী ভারতীয়দের দ্বারা নেতা হিসাবে সম্বর্ধনা পান।
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বেয়ার যুদ্ধের সময় ইনি ভারতীয়দের দ্বারা একটি এ্যাম্বুলেন্স বাহিনী গঠন করেন। এই কারণে ইনি যুদ্ধ পদক লাভ করেন। ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এই সময় ট্র্যান্সভালে এশীয়দের বিরুদ্ধে আইন প্রবর্তনের বিপক্ষে আন্দোলন করেন। এই কারণে ১৮০২ খ্রিষ্টাব্দে প্রবাসী ভারতীয়দের দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে, আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যান। এবার ইনি ট্র্যান্সভালে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জোহান্সবার্গে প্লেগ দেখা দিলে তিনি একটি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেন। ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে জুলু বিদ্রোহ শুরু হলে, আহতদের সেবার জন্য একটি ভারতীয় বাহিনী তৈরি করে, সেবা প্রদান করেন।
১৯০৬ সালে ট্র্যান্সভাল সরকার উপনিবেশের ভারতীয়দের নিবন্ধনে বাধ্য করানোর জন্য একটি আইন পাশ করে। ১১ই সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গের এক সভায় তিনি সবাইকে এই আইন বর্জন করতে বলেন। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষ্ক্রিয় আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এ সময় আইন অম্যান্য করা, নিজেদের নিবন্ধন কার্ড পুড়িয়ে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ভারতীয়কে বন্দী করা হয়। একই কারণে অনেক ভারতীয় হতাহত হন। শান্তিকামী ভারতীয়দের উপর এরূপ নিগীড়নমূলক আচরণের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করা শুরু করে। সরকার ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে ট্র্যান্সভাল ত্যাগ করার জন্য আদেশ জারি করে। কিন্তু তিনি এই আদেশ অগ্রাহ্য করলে, তাঁর দুই মাসের কারাদণ্ড হয়। পরে জেনারেল স্মার্টস তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে একটি আপোষ রফায় আসেন এবং তাঁর কারাদণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করেন। এই আপোষের কারণে ক্ষুব্ধ ভারতীয় পাঠানরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্মার্টস তাঁর আপোষ নাকচ করলে, ইনি পুনরায় নিষ্ক্রিয় আন্দোলন শুরু করেন। এই কারণে ইনি দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন।
১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে ডেপুটেশনে তিনি ইংল্যান্ড যান।নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জাহাজে ফিরবার সময়, তাঁর জীবনাদর্শ ও রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কিত বই স্বরাজ রচনা করেন। এই গ্রন্থের অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ট্র্যান্সভালে জোহানিসবার্গের নিকট নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মীদের পরিবারের কর্মসসংস্থানের জন্য তলস্তয় নামক একটি খামার স্থাপন করেছিলেন। এই ফার্মের জন্য হেরম্যান কালেনবাক নামক একজন জার্মান স্থপতি এই খামারের জন্য ১১০০ একর জমি দান করেছিলেন।
১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইনি ইউরোপীয় পোশাক এবং দুধ পরিত্যাগ করেন। এই সময় থেকে তিনি শুকনো ও তাজা ফল খেয়ে জীবন ধারণের অভ্যাস করা শুরু করেন। এছাড়া সপ্তাহে ১ দিন অভ্যাস করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার ভারতীয়দের উপর মাথাপিছু ৩ পাউন্ড কর ধার্য করে। এই করারোপের প্রতিবাদে গান্ধীজী আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ২,০৪৭ জন পুরুষ, ১২৭ জন স্ত্রীলোক এবং ৫৭ জন ছেলেমেয়ে। এঁরা আন্দোলন করার জন্য ট্র্যান্সভালে প্রবেশ করলে, সরকার গান্ধীজীকে গ্রেফতার করে। এই আন্দোলনের কারণে তিনি দুই দফায় ৯ মাস ও ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে যান।
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানে ভারতীয়দের দ্বারা একটি এ্যাম্বুলেন্স বাহিনী তৈরি করেছিলেন। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের সহায়তা করার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কাইসার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে। এরপর ইনি ভারতে ফিরে আসেন এবং মে মাসে আহমেদাবাদ সবরমতী নদীর তীরে সত্যাগ্রহ আশ্রম স্থাপন করেন। ১৯১৫ -১৬ খ্রিষ্টাব্দে ইনি রেলপথে ভারত এবং বার্মা (বর্তমানে মায়ানমার) ভ্রমণ করেন।
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের বিদেশ প্রেরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সাফল্য লাভ করেন। এই বৎসরেই চরকায় সুতা কেটে সেই সুতা থেকে কাপড় তৈরির ধারণা লাভ করেন। এপ্রিল মাসে বিহারের চম্পাবরণে নীলচাষীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। পরে তাঁকে মুক্তিও দেওয়া হয়। এরপর তিনি বিহার সরকার কর্তৃক রায়তদের অবস্থা অনুসন্ধান কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে আহমেদাবাদ বস্ত্র কারখানায় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শ্রমিকদের নিয়ে আম্দোলন করেন। এই আন্দোলন সহজে মিটমাট হওয়ার জন্য উপবাসসহ প্রার্থনা করেন। এরপর শস্যহানির জন্য বোম্বাই জেলার খাজনা মওকুফের জন্য সত্যাগ্রহ করেন। দিল্লীতে ভাইসরয়ের যুদ্ধ পরিষদের সভায় তিনি হিন্দিতে বক্তৃতা দেন। পরে যুদ্ধে যোগদানের জন্য লোক সংগ্রহের জন্য কয়রা জেলা ভ্রমণ করেন।
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে রাউটাল বিল বাতিলের জন্য দরখাস্ত করেন। এপ্রিল মাসে সর্বভারতীয় সত্যগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়, এবং হরতাল পালিত হয়। এরপর পাঞ্জাবে তাঁর প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে, তিনি পাঞ্জাবে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই কারণে দিল্লী যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ই এপ্রিল তারিখে জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাকাণ্ডের পর গান্ধীজী সবরমতী আশ্রমে ৩ দিনের উপবাস করেন। ১৪ই এপ্রিল তারিখে নদিয়াদে স্বীকার করেন যে, সত্যাগ্রহ করে তিনি হিমালয়তূল্য ভুল করেছেন। এই বৎসরের সেপ্টেম্বর মাসে গুজরাটি ভাষায় নবজীবনপত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। উল্লেখ্য এই পত্রিকাটি পরে হিন্দি ভাষাতেই প্রকাশিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অক্টোবর মাসে তাঁর সম্পাদনায় ইংরেজি পত্রিকা 'ইয়ং ইন্ডিয়া' সম্পাদনা শুরু করেন। নভেম্বর মাসে দিল্লীতে নিখিল ভারত খিলাফত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় এবং সভার সভাপতিত্ব করেন গান্ধীজী। এই সময় মনটেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার গ্রহণ করার জন্য অমৃতসর কংগ্রেসকে পরামর্শ দেন।
১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে তুরস্কের সুলতানের খিলাফত অধিকার রক্ষার জন্য ভাইসরয়ের কাছে ডেপুটেশনের নেতৃত্ব দেন। এই বৎসরে ভাইসরয়ের কাছে কাইসার-ই-হিন্দ পদক, জুলু পদক ও বুর যুদ্ধ পদক প্রত্যার্পণ করেন। ডিসেম্বর মাসে নাগপুর কংগ্রেসের অধিবেশন ঘোষণা করা হয়।
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাঝে মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গুজরাটে তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস স্বরাজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন সংবিধান গ্রহণ করেন। একই সাথে টোকেন ফি দিতে রাজি হওয়া যে কোন ব্যক্তির জন্য দলের সদস্যপদ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।




১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাইসরয়কে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, গুজরাটের বরদৌলিতে সত্যাগ্রহ অভিযান চালনা করা হবে। কিন্তু ৫ই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরাতে জনতা ২১জন কনস্টেবল ও একজন সাব ইন্সপেক্টরকে অগ্নিদগ্ধ করে মেরে ফেলেন। এই সহিংস ঘটনার জন্য টানা ৫ দিন উপবাস করেন। এরপর সত্যাগ্রহ আন্দোলন পরিত্যাগ করেন।
১৯২২ সালের ১০ মার্চ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৮ মার্চে বিচারে তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
১৯২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পুনাতে তাঁর এপেনডিসাইটিসের অপারেশন করা হয় এবং ৫ ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৮ই সেপ্টেম্বরের হিন্দু-মুসলিমদের বোধ ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য ২১ দিনের উপবাস করেন। ডিসেম্বর মাসে বেলগাঁও কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে সেপ্টেম্বর মাসে নিখিল ভারত সুতাকাটা সমিতি স্থাপিত হয়। নভেম্বর মাসে আশ্রমবাসীদের একজন একটি অপকর্ম করে। এই কারণে গান্ধীজী ৭ দিন 'বদলি উপবাস' করেন। এই সময়ে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Story of my Experiments with Truthনামক গ্রন্থ রচনা শুরু করেন।
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ঘোষণা করা হয়, ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের শেষ হওয়ার আগে ভারতকে ডোমিনিয়ন স্টেটাস প্রদান না করলে, কংগ্রেস আন্দোলন করবেন। কিন্তু ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে লাহোরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ বা পূর্ণ স্বাধীনতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ৩১ ডিসেম্বরে ভারতীয় পতাকার উন্মোচন কারা হয় লাহোরে।
১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি লাহোর মিলিত হয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দিনটিকে ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উৎযাপন করে। ফেব্রুয়ারি মাসে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি গান্ধীজী আইন অমান্য আন্দোলনের একনায়ক হিসাবে নিযুক্ত হন। মার্চ মাসের শুরুতে, ভাইসরয়কে এক চিঠিতে জানান যে, কংগ্রেসের দাবি না মানলে, তিনি লবণ আইন ভঙ্গ করার আন্দোলন শুরু করবেন। ১২ মার্চ তারিখে এলাহাবাদ থেকে ৪০০ কিলোমিটার হেঁটে ডান্ডি সমুদ্র সৈকতে পৌছান ৬ এপ্রিলে এবং লবণ সংগ্রহ শুরু করেন। এই সময় হাজার হাজার ভারতীয় তাঁর সাথে হেঁটে সাগরের তীরের পৌছান। উল্লেখ্য এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অন্যতম সফল প্রয়াস। ৫ মে তারিখে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিনা বিচারে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর ফলে সারা দেশে বিক্ষোভ হলে, প্রায় লক্ষাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রফতার করা হয়।
ল্যাঙ্কশায়ারের ডারওয়েনে মহিলা বস্ত্রশ্রমিকদের সাথে, ১৯৩১১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ জানুয়ারিতে তিনি বিনা শর্তে মুক্তি লাভ করেন। এই সময় সরকার গান্ধীর সাথে সমঝোতা করার জন্য লর্ড এডওয়ার্ড আরউইনকে প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ করে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বড়লাট লর্ড আরউইনের সঙ্গে তাঁর অনেকগুলি সাক্ষাৎকার ঘটে এবং অবশেষে আরউইন-গান্ধী চুক্তি সম্পাদিত হয়। এরপর ২৯ আগষ্ট তারিখে তিনি কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে ইংল্যান্ডে গোল-টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য রওনা হন। লণ্ডনে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। ২৬ সেপ্টেম্বরে ল্যাঙ্কশায়ারের ডারওয়েনে মহিলা বস্ত্রশ্রমিকদের সাথে মিছিল করেন। অধিবেশন শেষ ৫ ডিসেম্বরে তিনি লণ্ডন ত্যাগ করেন। ২৮ ডিসেম্বরে বোম্বাই পোঁছুলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিনা বিচারে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১ লা জানুয়ারিতে কংগ্রেসর ওয়ার্কিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ইংরেজের সকল ধরনের রাজনৈতিক অত্যাচারের বন্ধ করার দাবি করা হয়। এবং সাতদিনের মধ্যে এই দাবি না মানলে, আইন-অমান্য আন্দোলন-এর হুমকি দেওয়া হয়। এই সূত্রে সরকার গান্ধীজী, জহরলাল নেহেরু, বল্লভ ভাই প্যাটেল, সুভাষ বসু-সহ বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, এই সময় সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৭ এপ্রিল তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি 'আইন-অমান্য অন্দোলন' প্রত্যাহার করেন। এই কারণে তিনি তীব্রভাবে সমালোচিত হন।
সাম্প্রদায়িক ভাগ-বাঁটোয়ারা সিদ্ধান্ত অনুসারে হরিজনদের পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা রহিতকরণের জন্য, ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি 'আমরণ উপবাস' শুরু করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর এই দাবি মেনে নিলে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি ও হিন্দিতে সাপ্তাহিক হরিজন পত্রিকা স্থাপিত হয়। ৮ই মে থেকে তিনি আত্মশুদ্ধির জন্য ২১ দিনের উপবাস শুরু করেন। এই রাত ৯টার সময় তিনি বিনাশর্তে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। ভারতের জন্য অহিতকর সরকারে সকল আদেশ প্রত্যাহরের জন্য ৯ মে থেকে ৬ সপ্তাহের জন্য আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত করেন। ২০শে মে তারিখে উপবাস ভঙ্গ করেন। ২৬শে জুলাই-তে তিনি সত্যাগ্রহ আশ্রম তুলে দেন। ৩০শে জুলাই তারিখে বোম্বাই সরকারকে জানান যে, ৩৩ জন অনুসারী নিয়ে আহমেদাবাদ থেকে রাস পর্যন্ত আইন অমান্য আন্দোলনের প্রচারণ চালাবেন। এই কারণে ৩১শে জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৬ই আগষ্ট থেকে অনশন শুরু করলে, ২৩শে আগষ্টে তাঁকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। ৭ই নভেম্বর থেকে তিনি হরিজন উন্নয়নের কাজ শুরু করেন।
১৯৩৪ সালের গ্রীষ্মে তাকে হত্যার জন্য তিনটি ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়।১৭ সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণায় তিনি জানান যে, ১লা অক্টোবর হতে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে পল্লি উন্নয়ন, হরিজন সেবা এবং বুনিয়াদী হস্তশিল্পের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবেন। ২৬ অক্টোবর তিনি নিখিল ভারত পল্লি-শিল্প সমিতি উদ্বোধন করেন।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে এপ্রিল থেকে মধ্য প্রদেশের সেবাগ্রামে বসতি শুরু করেন এবং এখানে তাঁর কর্মকেন্দ্র স্থাপন করেন। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে অক্টোবরে তাঁর সভাপতিত্বে বুনিয়াদী কারুশিল্পের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। ইতিপূর্বে রাজকোটের তৎকালীন রাজা শাসন সংস্কারের কিছু অঙ্গীকার করেন এবং পরে তা কার্যকরী না করায়, ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা মার্চ থেকে তিনি আমরণ উপবাস শুরু করেন। পরে ৭ই মার্চে ভাইসরয়ের হস্তক্ষেপে তিনি উপবাস ভঙ্গ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে গান্ধী, ১৯৪০
১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে ভাইসরয়ের নিমন্ত্রণের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অক্টোবর মাসে ব্যক্তিগত আইন অমান্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নীতিতে অটল থাকেন। সরকার সংবাদ প্রকাশের পূর্বে পাণ্ডলিপি পরীক্ষণ আদেশ দিলে, হরিজন ও সংশ্লিষ্ট সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।
১৯৪১ সালের মার্চ মাসে গান্ধী-আরউইন চুক্তি হয়। এই চুক্তি অনুসারে সকল গণ অসহযোগ আন্দোলন বন্ধের বিনিময়ে সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। ৩০শে ডিসেম্বরে তাঁর অনুরোধে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই জানুয়ারি থেকে হরিজন ও অন্যান্য পত্রিকার প্রকাশনা শুরু করেন। এই বৎসরে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপ্স ব্রিটিশ সরকারের শাসন সংস্কারমূলক প্রস্তাব নিয়ে ভারতে আসেন। ২৭শে মার্চ তাঁর সাথে ক্রিপ্সের আলোচনা হয়। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া প্রস্তাব দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং প্রথম প্লেনে ক্রিপ্সকে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মে মাস থেকে শুরু হয়, 'ভারত ছাড়' আন্দোলন। ৮ আগষ্টে তিনি বোম্বাই-এ কংগ্রেস কমিটির অধিবেশন 'ভারত ছাড়' প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দেন। এই কারণে ৯ই আগষ্টে তাঁকে গ্রেফতার করে পুনার আগা খান প্রাসাদে বন্দী করে রাখা হয়।
১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারিতে তিনি ২১ দিনের উপবাস শুরু করেন। মার্চের ৩ তারিখে অনশন ভঙ্গ করেন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে ফেব্রুয়ারিতে গান্ধীজীর পত্নী কস্তরবাই আগাখান প্রাসাদে মৃত্যবরণ করেন। ৬ই মে-তে তিনি বিনা শর্তে মুক্তি পান। সেপ্টেম্বর মাসের ৯ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে গান্ধীজীর আলাপ-আলোচনা হয়।
১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে এবং ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বঙ্গদেশ ও আসাম ভ্রমণ করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন। এপ্রিল ও মে মাসে দিল্লী ও সিমলায় ব্রিটিশ ক্যাবিনেটের সাথে রাজনৈতিক আলোচনা হয়। ১৬ই আগষ্টে কলকাতায় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে নোয়াখালি জেলায় এবং বিহারে এই দাঙ্গা মারাত্মক রূপ লাভ করে। অক্টোবর মাসে নোয়াখালিতে তিনি কর্মস্থল স্থাপন করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভিতর মৈত্রী-স্থাপনের চেষ্টা করেন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে তিনি বিহারে যান। ১৪-১৫ আগষ্টে ভারতবর্ষ বিভাজিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই সময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে থাকলে, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বরে জনগণের শুভবুদ্ধির আশায় তিনি উপবাস করেন।




১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারিতে দিল্লীতে গান্ধীজীর প্রার্থনা সভায় একটি বোমা নিক্ষিপ্ত হয়। তবে এতে কেউ আহত হন নাই। ৩০ জানুয়ারি তারিখে, দিল্লীর বিরলা ভবনে (বিরলা হাউস) সান্ধ্যা প্রার্থনাসভায় শান্তির বাণী প্রচারের জন্য উপস্থিত হওয়ার প্রাক্কালে নাথুরাম বিনায়ক গোডসে নামক একজন হিন্দু মৌলবাদী তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্র বিজ্ঞান প্রশ্ন সেট পার্ট ৪

political-science-questions-set-part-4

    PART - A ( MARKS :- 40 )

১) নিম্নলিখিত প্রশ্ন গুলির উত্তর দাও ।
১) শক্তি বা ক্ষমতা বলতে কি বোঝায় ? ক্ষমতার উপাদান গুলি আলোচনা করো ?

২) জাতীয় স্বার্থের সংজ্ঞা দাও ? একটি রাষ্ট্রের বিদেশনীতিতে জাতীয় স্বার্থের ভূমিকা আলোচনা করো ?

৩) গান্ধীবাদ বলতে কি বোঝায় ? গান্ধীবাদের মূলনীতি অহিংসার মূল্যায়ণ করো ।

৪) জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কে ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বিশ্লেষণ করো ।

৫) ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।



১) বিকল্প উত্তর গুলির মধ্যে থেকে সঠিক উত্তর টি বেছে নিয়ে লেখো ।

১) " ওয়ারশ চুক্তি " স্বাক্ষরিত হয় ?
ক) ১৯৫৫ সাল.   
খ) ১৯৫৪ সাল
গ) ১৯৫৬ সাল   
ঘ) ১৯৫২ সাল ।

২) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হয় ১৯৬১ সালে ?
ক)  বান্দুং       
খ) জাকাতায়
গ) আলজিয়াসে     
ঘ) বেলগ্রেড ।

৩) দাঁতাত শব্দের অর্থ কী ?
ক) উতেজনা প্রশমন   
খ) উতেজনা বৃদ্ধি
গ) অস্ত্র প্রতিযোগিতা   
ঘ) অস্ত্র সংরক্ষণ ।

৪) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা গঠিত হয় ?
ক) ১৯৯৬ সালে     
খ) ১৯৯৮ সালে
গ) ২০০২ সালে.         
ঘ) ১৯৮০ সালে ।

৫) ভারতের "No First Strike " - এর পরমাণুনীতির প্রধান রূপকার হলেন ?
ক) নেহেরু       
খ) অটলবিহারী বাজপেয়ারি
গ) ইন্দিরা গান্ধী.       
ঘ) রাজীব গান্ধী ।

৬)SAARC  কত সালে গঠিত হয় ?
ক) ১৯৮৫ সালে               
খ) ১৯৯৬ সালে
গ) ১৯৮৪ সালে                 
ঘ) ১৯৮৩ সালে ।

৭) আন্তজার্তিক বিচারালয়ের সদস্য সংখ্যা হল ?
ক) ১৬টি     
খ)৯ টি
গ) ১৫টি               
ঘ) ৭ টি ।

৮) জাতিপুঞ্জের সাধারনসভায় সদস্য সংখ্যা হল ?
ক) ১৯০                   
খ)১৯১
 গ)১৯৩.                   
ঘ) ১৯৪ ।

৯) আন্তজার্তিক বিচারালয়ের সদর দপ্তর কোথায় রয়েছে ?
ক) লন্ডনে                         
খ) নীউইয়র্কে
গ) হেগ শহরে                     
ঘ) ওয়াশিংটন ।

১০) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মানবাধিকার ঘোষণা হয় ?
ক) ১৯৪৭ সালে                     
খ) ১৯৪৮ সালে
গ) ১৯৪৯ সালে                 
ঘ) ১৯৫০ সালে ।

১১) ভারতের কেন্দ্রীয় শাসন বিভাগের প্রধান হলেন ?
ক) রাষ্ট্রপ্রতি     
খ) প্রধানমন্ত্রী
গ) উপরাষ্ট্রপ্রতি                     
ঘ) রাজ্যপাল ।

১২) " সমপযায়ভুক্ত  ব্যাক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য " হলেন ভারতের ?
ক) রাষ্ট্রপ্রতি               
খ) প্রধানমন্ত্রী
গ) উপরাষ্ট্রপ্রতি                       
ঘ) স্পিকার ।

১৩) " সরকারের উৎকষ বিচারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের কমকুশলতা অপেক্ষা অধিকতর উপযোগী মানদন্ড আর নেই " বলেছেন - ?
ক) গেটেল                       
খ) গনার
গ) লডব্রাইস                   
ঘ) লেষ্কি ।

১৪) উপরাষ্ট্রপ্রতিকে অপসারন করার প্রস্তাব আসতে পারে ?
ক) লোকসভা এককভাবে.       
খ) রাজ্যসভা এককভাবে
গ) পার্লামেন্ট এককভাবে.       
ঘ) বিধানসভা এককভাবে ।

১৫) বর্তমানে কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়াড সংখ্যা হল ?
ক) ১৪১.                   
খ) ১৪২
গ) ১৪৩                         
ঘ) ১৪৪ ।

১৬) পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার সর্বোচ্চস্তর হলো ?
ক) পঞ্চায়েত সমিতি     
খ) জেলা পরিষদ
গ) গ্রাম পঞ্চায়েত.       
ঘ) গ্রাম সংসদ ।

১৭) পঞ্চায়েত সমিতির কর্মকর্তা হলেন ?
ক) সভাধিপতি. 
খ) সহ - সভাধিপতি
গ) সভাপতি. 
ঘ) প্রধান ।

১৮) নব নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা আহ্বান করেন ?
ক) প্রধান                       
 খ) সভাপতি
গ) বি . ডি.ও.               
ঘ) এস. ডি.ও ।

১৯) ক্ষমতা - সতন্ত্রীকরন নীতি টিকে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলে মেনে নিতে রাজি নন ?
ক) সেকইন                                             খ) লেকি
গ) দ্রুগুই                                                ঘ) কেদা ।

২০) ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের নাম কি ?
ক) রাজ্য সভা   
খ) লোকসভা
 গ) আইনসভা   
ঘ) বিধানসভা ।

২১) ভারতের সর্বোচ্চ আপিল আদালত হল ?
ক) সুপ্রিমকোর্ট 
খ) হাইকোর্ট
গ) লোক আদলত     
ঘ) ক্রেতা সুরক্ষা আদালত ।

২২) রাজ্যর সর্বোচ্চ আদালত হলো ?
ক) সুপ্রিমকোর্ট
খ) হাইকোর্ট
গ) লোক আদালত
ঘ) ক্ষেতা সুরক্ষা আদালত ।

২৩) সুয়েজ সংকট দেখা দেয় যে বছর
ক) ১৯৫০ সাল
খ) ১৯৫২ সাল
গ) ১৯৫৬ সাল
ঘ) ১৯৬০ সাল ।

২৪) সেচ্ছাদিন ক্ষমতা কে ভোগ করেন ?
ক) মুখ্যমন্ত্রী     
খ) রাজ্য পাল
গ) রাষ্ট্রপ্রতি     
ঘ) প্রধানমন্ত্রী ।




২) নিম্নলিখিত প্রশ্ন গুলির অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও ।
১)" ঠান্ডা লড়াই হলো গরম শান্তি " কে বলেছেন ?

২) মাশাল পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে কি ছিল ?

৩) SAFTA  -এর পুরো নাম কি ?

৪)SAARC -এর একটি উদ্দেশ্যে লেখো ?

৫) পঞ্চশীল নীতির ২টি নীতি উল্লেখ করো ?

৬) সাধারন সভার একটি কাজ উল্লেখ করো ?

৭) আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারপতিরা কিভাবে নির্বাচিত হন ?

৮) ভিটো বলতে কি বোঝায় ?

৯) মহাসচিবের একটি কাজ উল্লেখ করো ?

১০) ভারতের রাষ্ট্রপতি কিভাবে নির্বাচিত হন ?

১১) রাষ্ট্রপতি কখন অডিনান্স জারি করতে পারেন ?

১২) গ্রামসভা কাদের নিয়ে গঠিত হয় ?

১৩) মেয়র কিভাবে নির্বাচিত হন ?

১৪) পশ্চিমবঙ্গের পৌর অঞ্চলের তিনটি কৃতপক্ষ কি কি ?

১৫) " বিচার প্রণীত আইন " বলতে কি বোঝায় ?

১৬) WHO - এর পুরো নাম কি ?





বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্র বিজ্ঞান প্রশ্ন সেট পার্ট ৩

political-science-questions-set-part-3

      PART - A ( MARKS :- 40 )
১) নিম্নলিখিত প্রশ্ন গুলির উত্তর দাও ।

১) বিশ্বায়নের প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল আলোচনা করো ?

২) উদারনীতি বাদের তিনটি ধারা বলতে কি বোঝায় ? সার্বিক উদারনৈতিক মতবাদের মূল বৈশিষ্ট্য সমুহ আলোচনা করো ?

৩) ভারতের উপরাষ্ট্রপ্রতি পদ প্রার্থী র যোগ্যতা বলী , নির্বাচন পদ্ধতি ও কার্য কাল বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করো ? তার ক্ষমতা ও পদ মর্যাদা বিবরণ দাও ?

৪) ভারতীয় পার্লামেন্টের গঠন , ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।

৫) লোক আদালত বলতে কি বোঝায় ? সাধারন আদালতের সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায় ? লোক আদালতের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।



            PART - B 

১) বিকল্প উত্তর গুলির মধ্যে থেকে সঠিক উত্তর টি বেছে নিয়ে লেখো ।

১) এক মেরু বিশ্বের নিয়ন্ত্রক শক্তি হলো ?
ক) চিন
খ) ফ্রান্স
গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ঘ) ইংল্যান্ড ।

২) ট্রুম্যান নীতি ঘোষিত হয় ?
ক) ১৯৪৯ সালে
খ) ১৯৪৭ সালে
গ) ১৯৫৫ সালে
ঘ) ১৯৬১ সালে ।

৩)একটি নিরপেক্ষ দেশ হলো ?
ক) ফ্রান্স
 খ) মিশর
 গ) অস্ট্রিয়া
 ঘ) বাংলাদেশ ।

৪) প্রথম জোটনিরপেক্ষ শিষ সম্মেলন হয় ?
ক) নতুন দিল্লিতে
খ) কলম্বোতে
গ) বেলগ্রেড
ঘ) কায়রোতে ।

৫) " The Making Of Foreign Policy "   গ্রন্থের লেখক হলেন ?
ক) মার্শাল
খ) মোগেনথাউ
গ) জোসেফ ফ্রাঙ্কেল
 ঘ) হাটম্যান ।

৬) তাসখণ্ড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ?
ক) ভারত - পাকিস্থানের মতো
খ) ভারত - চীনের মধ্যে
গ) ভারত - রাশিয়ার মধ্যে
ঘ) ভারত - বাংলাদেশের মধ্যে ।

৭) জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের কার্যকাল ?
ক) ৫ বছর
 খ) ৭ বছর
 গ) ৮ বছর
 ঘ) ৯ বছর ।

৮) জাতিপুঞ্জ গঠিত হয় ?
ক) ১৯৩৯ সালে
খ) ১৯৪৫ সালে
গ) ১৯৪৯ সালে
 ঘ) ১৯৫৫ সালে ।

৯) আন্তজার্তিক বিচারালয়ের বিচারপতির সংখ্যা ?
ক) ৭ জন
 খ) ৯ জন
গ) ১০ জন
ঘ) ১৫ জন ।

১০) আন্তজার্তিক বিচারালয়ের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত ?
ক) ভিয়েনাম
খ) লন্ডনে
গ) হেগ শহরে
ঘ) জেনেভায় ।

১১) ক্ষমতা সতন্ত্রীকরন নীতির প্রবক্তা হলেন ?
ক) হবস
 খ) মার্কস
 গ) মন্টেস্কু
 ঘ) হেগেল ।

১২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনসভার উচ্চকক্ষ হলো ?
ক) লড সভা
খ) ডুমা
গ) সেনেট
 ঘ) কমন্স সভা ।

১৩) একটি রাজতান্ত্রিক দেশ হলো ?
ক) চিন
 খ) ব্রিটেন
 গ) পাকিস্থান
 ঘ) রাশিয়া ।

১৪) " বিশ্বের আইনসভা গুলির জননী " বলা হয় ?
ক) ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কে
 খ) মার্কিন কংগ্রেসকে
গ) ফরাসী পার্লামেন্ট কে
ঘ) চীনের জাতীয় গণ কংগ্রেস কে ।

১৫) বিচারগণ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন ?
ক) ফিনল্যান্ডে
 খ) সুইজারল্যান্ডে
 গ) অকল্যান্ডে
ঘ) নিউজিল্যান্ডে ।

১৬) ভারতের নিয়ম তান্ত্রিক শাসক প্রধান হলেন ?
ক) পার্লামেন্ট
খ) প্রধানমন্ত্রী
গ) রাষ্ট্রপ্রতি
 ঘ) উপ রাষ্ট্রপ্রতি ।

১৭) ভারতের রাষ্ট্রপ্রতি কে অপসরণ করেন ?
ক) আইন বিভাগ
খ) শাসন বিভাগ
গ) বিচার বিভাগ
ঘ) যৌথ আইনসভা ।

১৮) সেচ্ছাধীন ক্ষমতা ভোগ করেন ?
ক) রাষ্ট্রপ্রতি
খ) প্রধানমন্ত্রী
গ) রাজ্যপাল
ঘ) মুখ্যমন্ত্রী ।

১৯) রাষ্ট্রপ্রতি লোকসভায় ইঙ্গ ভারতীয় সদস্য মনোনীত করেন ?
ক) ২ জন
খ) ৫ জন
গ) ৬ জন
 ঘ) ১২ জন ।

২০) ভারতের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ?
ক) উপ রাষ্ট্রপ্রতি
খ) রাষ্ট্রপ্রতি
 গ) স্পিকার
ঘ) প্রধানমন্ত্রী ।

২১) জেলার প্রধান রাজনৈতিক প্রশাসক হলেন ?
ক) জেলাশাসক
 খ) সভাপতি
গ) সভাধিপতি
ঘ) জেলা জজ ।

২২) পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক আধিকারিক হলেন ?
ক) প্রধান
 খ) সভাপতি
গ) বি. ডি.ও
 ঘ) এস. ডি.ও ।

২৩) কে. এম .সি - এর বর্তমান ওয়ার্ড সংখ্যা কত ?
ক) ১৪১
 খ) ১৪২
গ) ১৪৩
 ঘ) ১৪৪ ।

২৪) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা আহ্বান করেন ?
ক) প্রধান
খ) এস. ডি.ও
গ) বি. ডি.ও
ঘ) সভাধিপতি ।




২) নিম্নলিখিত প্রশ্ন গুলির অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

১) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন কোন নীতির ভিত্তি অনুসরণে হয়েছে ?

২) সার্ক - এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত ?

৩) CENTO  কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

৪) ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান কবে ঘটে ?

৫) তেহেরান চুক্তি কত সালে হয়েছিল ?

৬) সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির জোট কোনটি ?

৭) দ্বিকক্ষ বিশিষ্ঠ আইনসভার সপক্ষে একটি যুক্তি দাও
৮) নাম সবর্শ শাসক বলতে কি বোঝ ?

৯) রাষ্ট্রপ্রতির নির্বাচনে কারা ভোট দিতে পারেন ?

১০) মন্ত্রিসভায় কে সভাপতিত্ব করেন ?

১১) কলকাতা পৌর নিগমের আয়ের দুটি উৎস কি কি ?

১২) পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার সর্বোচ্চ স্তর কোনটি ?

১৩) গ্রাম পঞ্চায়েতের আয়ের দুটি উৎস কি কি ?

১৪) CTBT- এর পুরো কথাটি কি ?

১৫) IAS- এর পুরো কথাটি কি ?

১৬) UNESCO  - এর পুরো কথাটি কি ?