বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯

পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা বাংলা রচনা



poribesh-unnoyone-students-der-vumika-rochona
পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা





ভূমিকা :– বানিজ্যিক বাজার ও কাঁচা মালের প্রভূত সম্ভাবনার ক্ষেত্র ভারতবর্ষে থাকায় ভারতবর্ষ বিদেশিদের দ্বারা বারবার লুণ্ঠিত হয়েছে । বর্তমানে বিশ্বয়নের কুফলের ফলে সেই লুণ্ঠনের পরিমাণ আরো বেড়েছে । যে ভারতের পরিবেশ ও সংস্কৃতি বিশ্বের আঙিনায় নিজেকে প্রমাণ করে নিজেদের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছে , সেই পরিবেশ ও সংস্কৃতি আজ লুণ্ঠিত । আমাদের দেশের নিমগাছ , হলুদগাছ , বাসমতি চাল , অবিশ্বাস্য হলেও আর আমাদের নেই , এমনকি আমাদের দেশের মাটি আজ অপরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । ভারতের আকাশে , বাতাসে দূষণের ছড়াছড়ি । ভারতের মাটিতে যে চাষ হয় তা নিয়ন্ত্রণ করে ধনী দেশ , আর সেই সব ধনী দেশ যে সব মারাত্মক গ্যাস উৎপাদন করে, তা পৌঁছে যায় আমাদের মতো গরীব দেশগুলিতে । সেই প্রেক্ষিতে পরিবেশ উন্নয়নে দেশের ছাত্র সমাজের একটি বিশিষ্ঠ ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না ।




আইনগত দিক :– ভারতীয় সংবিধানের ৫১ ( ক ) ধারায় ভারতীয় নাগরিকদের ভারতীয় পরিবেশ রক্ষার কথা বলা হয়েছে । ছাত্র ছাত্রী ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সেই দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ । আসলে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকের চেতনা ব্যাক্তিগত স্বার্থ দেখতে গিয়ে জাতীয়  স্বার্থ তথা পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে , দেখা দিচ্ছে নানান দূষণ । সেক্ষেত্রে সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় ও উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য ।




পরিবেশ সচেতনায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা :– সচেতনতাই পারে যে কোন উন্নয়নকে গতিশীল করতে । সেই উন্নয়নে ছাত্র ছাত্রীকেই অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে । সেজন্য যা করতে হবে তাহলো – ক) পারিপাশ্বিক পরিবেশ সমন্ধে নিজেদের সচেতন হওয়া । খ) জন সাস্থ্য সম্পকে অবহিত হয়ে , সেই বিষয়ে প্রচার করা । গ) সবরকম দূষণ ও তার কারন সমন্ধে পারস্পরিক আলোচনা করে যথাসম্ভব তা বন্ধ করার জন্যে কর্মসূচি গ্রহণ । ঘ) নিজেদের বাড়িতে পয়ঃ প্রণালী ঠিক রাখা । ঙ) যে সব কারণে ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বিঘ্নিত হয় সেসব কাজ না করা । আহার , নিদ্রা , পরিষ্কার – পরিছন্নতা , বিষয়ে সচেতন হওয়া । সুষম খাদ্য সমন্ধে চেতনা গড়ে তোলা । চ ) অবৈজ্ঞানিক মানসিকতা ও কুসংস্কার দূরীকরনে সচেষ্ট হওয়া । ছ) ঘর গৃহস্থালির বজ্য পদার্থ যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা । জ) হাসপাতাল , নার্সিংহোম বি, স্কুল , কলেজ প্রভুতি জায়গায় সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা । ঝ) ধূমপান , মদ্যপান , ড্রাগ সেবন প্রভুতি থেকে বিরত থাকা । স্কুল , কলেজ , রাস্তাঘাট , পার্ক ,বাস , ট্রাম , ট্রেন , প্রভুতি জায়গায় খাবারের পরিত্যক্ত প্যাকেট না ফেলা । বাড়ির সংলগ্ন পরিবেশের পক্ষে উপযোগী – গাছ লাগানো  ও পুরানো গাছ না কাটা । রোগ প্রতিরোধে গাছপালার যে ভূমিকা আছে , সেই সব গাছ যে আমদের বন্ধু তা জেনে , সবাইকে জানানো ।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

/>