সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

মিলের অন্বয় ব্যতিরেকি পদ্ধতি উত্তর

miler-onnoyi-betiraki-podhoti


মিলের অন্বয় ব্যতিরেকি পদ্ধতি উত্তর 


উত্তর:-  মিল অন্বয় ব্যতিরেকি পদ্ধতির সুত্রটিতে এই ভাবে ব্যাক্ত করেছেন , " আলোচ্য ঘটনা টি উপস্থিত আছে এরূপ দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তে যদি কেবলমাত্র একটি ঘটনা সব সময়ই উপস্থিত থাকে এবং আলোচ্য ঘটনা টি উপস্থিত থাকে । তাহলে যে ঘটনাটির জন্য এই দুই শ্রেণীর দৃষ্টান্তের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায় সেই ঘটনাটি হয় আলোচ্য ঘটনার কার্য বা কারন বা কারনের অপরিহার্য অংশ ।
[  ] মিল পদ ও সূত্রটিকে এই ভাবে ব্যাখা করা যায় । পর্যবেক্ষণের পাওয়া কতক গুলো দৃষ্টান্তে একটি ঘটনা উপস্থিত থাকলে যদি দেখা যায় যে , এই সব দৃষ্টান্তে অন্য একটি ঘটনাও উপস্থিত রয়েছে  এবং যদি পূর্বের ঘটনাটি অনুপস্থিত থাকে । আমরা অনুমান করতে পারি যে এই দুটি ঘটনার কার্য কারন সম্পর্ক আছে ।

[   ] এই পদ্ধতিকে অন্বয় ব্যতিরেকি বলা হয় । কারন এক্ষেত্রে সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয় বর্তমান সদর্থক দৃষ্টান্তে গুচ্ছের দিক থেকে এই পদ্ধতি হল অন্বয় ব্যতিরেকি পদ্ধতি ।
সদর্থক ও নর্থক দুই রকমের উদাহরন আছে বলে এই পদ্ধতি কে অনেকটা  ব্যতিরেকি পদ্ধতি বলা যায় ।

সাংকেতিক উদাহরণ:-

     
              সদর্থক দৃষ্টান্ত                       
    
         নর্থক দৃষ্টান্ত  
                                                                   


পূর্ববর্তী ঘটনা                          

অনুবর্তী ঘটনা                     পূর্ববতী                           অনুবর্তী                           
ABC         
            
abc                    BCD                   bcd             
ACD

acd                DEF                    def            
ADE                                             ade          
                                           
                              
EFG                                 efg                                  



A হল a এর কারন |

এক্ষেত্রে সদর্থক দৃষ্টান্তে গুচ্ছে দেখা যায় যে, পূর্ববর্তী ঘটনার মধ্যে  A এবং অনুবর্তী ঘটনার মধ্যে  a সব সময় এক সঙ্গে উপস্থিত আছে । আবার নর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ দেখা যায় যে পূর্ববর্তী ঘটনার মধ্যে A এবং অনুবর্তী ঘটনা a সব সময় এক সঙ্গে অনুপস্থিত আছে , কাজেই সদর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ দুটি ঘটনার অনুপস্থিতর সাদৃশ্য দেখে অনুমান করা যায় যে ,A  হল a এর কারন । 

বাস্তব উদাহরণ :– 
                           ১)  যখনই সৌরভ ভারতীয় দলের হয়ে খেলে তখনই ভারত জয়লাভ করে । আবার সৌরভ যখনই ভারতীয় দলে অনুপস্থিত থাকে তখনই ভারত পরাজিত হয় । সুতরাং সৌরভের উপস্থিত হল ভারতীয় দলের সাফল্যের কারন ।
২) যেখানে যেখানে ম্যালেরিয়া সেখানে সেখানে মশার কামড় । আবার যেখানে যেখানে ম্যালেরিয়া নেই সেখানে সেখানে মশার কামড় নেই । অতএব মশার কামড়ই ম্যালেরিয়ার কারন ।

সুবিধা :–
         ১) এই পদ্ধতির প্রয়োগের ক্ষেত্র খুবই ব্যাপক । যেসব ক্ষেত্রে পরিমাণ সম্ভব নয় সেইসব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যায় না । 

২) এই পদ্ধতির সাহায্য আমরা কার্য থেকে কারনে এবং কারন থেকে কার্যে অগ্রসর হতে পারি ।
৩) এই পদ্ধতির সাহায্য যে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় তা বহুকারন সম্ভবনা থেকে অনেকাংশে মুক্ত । 

৪) এই পদ্ধতির সদর্থক ও নর্থক  দৃষ্টান্ত গুচ্ছের সাহায্য দুটি ঘটনার মধ্যে কার্য কারন সম্পর্ক স্থাপন করে । এই কারনে এই পদ্ধতিকে অন্বয় ব্যতিরেকি পদ্ধতির পরিবর্তিত উন্নত রূপে বলা হয় । 

অসুবিধা :–
           ১) এই পদ্ধতির পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরশীল বলে পর্যবেক্ষণের দোষ ( অপর্যবেক্ষণ দোষ ) দেখা দেবার সম্ভবনা থাকে । 

২) এই পদ্ধতিকে কার্য কারন কে সহ অবস্থান থেকে পৃথক করতে পারে না । দুটি ঘটনা সব সময় এক সঙ্গে উপস্থিত থাকলেই তাদের মধ্যে কার্য কারন সম্পর্ক থাকবে এই কথা কখনই সুনিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না ।
৩) এই পদ্ধতির নর্থক দৃষ্টান্ত গুচ্ছ কে সংগ্রহ করা খবুই কষ্ট সাধ্য ও শ্রম সাপেক্ষ । 

৪) পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরশীল হওয়ার জন্য এই পদ্ধতি কেবলমাত্র কার্য কারন সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় কিন্তু নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করতে পারে না ।  ।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

/>