মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

তেলেনোপতা আবিষ্কার গল্পে মাছ ধরার সময় পুকুর ঘাটের দৃশ্য টি বর্ণনা দাও

 

তেলেনোপতা আবিষ্কার গল্পে মাছ ধরার সময় পুকুর ঘাটের দৃশ্য টি বর্ণনা দাও

 

 





প্রশ্ন :- " তেলেনোপতা আবিষ্কার " গল্পে মাছ ধরার সময় পুকুর ঘাটের দৃশ্য টি বর্ণনা দাও ।



উত্তর :- প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত " তেলেনোপতা আবিষ্কার  " গল্প টি বাস্তব ও রোমান্সের অদ্ভুত মেলবন্ধন । সুদূর কলকাতা থেকে গল্প কথক দুজন বন্ধু সহ
 তেলেনোপতায় আসেন মাছ শিকারের উদ্দেশ্য । শ্যাওলা ভরা পুকুর ঘাটে বসে গল্প কথক যখন পানা ভরা সবুজ জলে চারসহ বড়শি পেলেন তখন একই উদ্দেশ্য পূরণে প্রত্যাশী কয়েকটি প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ্য করেন । তারা যথারীতি গল্প কথক কে বিরক্ত করছিল । এক মাছরাঙা পাখি বাতাসে রঙের ঝিলিক বুলিয়ে পুকুরের জলে ঝাঁপ দিয়ে সার্থক শিকার ধরে গল্প কথক কে যেন বিদ্রুপ করছিল । একটি সাপ ঘাটের ফাটল থেকে বেরিয়ে গল্প কথক কে ভীত সন্ত্রস্ত করে " ধীর অচঞ্চল গতিতে " সাঁতরে অপর পারে উঠেছিল । দুটি ফড়িং পাল্লা দিয়ে " পাতলা কাঁচের মতো পাখা নেড়ে " ফাতনার উপর বসার চেষ্টা করছিল । একটি ঘু ঘু পাখী ক্রমাগত ডেকে ডেকে গল্প কথকের মাছ ধরার মনোসংযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল । এভাবেই গল্প কথক যখন প্রায় আনমনা সেই সময় হটাৎ জলের শব্দে চমকে ওঠে শোনেন - বসে আছেন কেন ? টান দিন । দীর্ঘ ,শীর্ণ , অপুষ্ট শরীরের অধিকারিনী যামিনির এই বক্তব্য ও ছিল । যামিনী চলে যাওয়ার পর গল্প কথক দেখেন বড়শি তে টপ আর নেই । এভাবেই গল্প কথক প্রকৃতির পটে আঁকা নির্জন পুরী তেলেনাপতার পুকুরে মাছ শিকার করার সময় কালীন পুকুর ঘাটের আনুপূর্বিক বিবরণ উপস্থাপিত করেছেন ।


/>

সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

কর্তার ভূত গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?

কর্তার ভূত  গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?

 

প্রশ্ন :-  "কর্তার ভূত " গল্প অবলম্বনে ভূতুড়ে জেলখানার বিবরণ দাও ?


উত্তর :- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " লিপিকা " গ্রন্থের অন্তর্গত "কর্তার ভূত " গল্পে ভূত শাসন তন্ত্রে নায়েব গমোস্থারা মৃত কর্তার অশরীরী অসিস্তত্তের ভয় দেখিয়ে শোষণ পীড়নের প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যায় । তাদের চেতনা ও বিচার বুদ্ধি নিরুপদ্রব ঘুমের শান্তিতে অসারে শায়িত থাকে । এই সুযোগে বহিরাগত বুলবুলি , বর্গী ও ভূতের পেয়াদারা এসে শোষণ পীড়ন চালায় মানুষের ওপর । এই শোষণ পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোকে তাত্ত্বিকেরা অন্যায় বলে বিধান দেয় । সেই জন্যে প্রতিবাদীরা ভূতের কানমলা খায় । মানুষের অসচেতনতা , অজ্ঞতাই এই তাত্ত্বিকদের কাছে কাঙ্ক্ষিত । ভূত শাসন তন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্র শক্তি দুটি কৌশল নিরন্তর চালু রাখে -

ক) তাত্ত্বিকদের দ্বারা অজ্ঞানতার দর্শন প্রচার ।

খ) ভূতুড়ে জেলখানার ভয় দেখানো ।

[  ] যারা প্রতিবাদী , প্রশ্নকারী , বিদ্রোহী তাদের স্থান হয় ভূতুড়ে জেলখানায় । সেই জেলখানার দারোগা স্বয়ং নায়েব । দেওয়াল বিহীন জেলখানার ঘানিতে তাদের তেজ বা শক্তি বের করে শান্ত করে রাখা হয় । তিনি গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চালিয়ে পীড়ন বে ব্যাবস্থাকে অদৃশ্য রাখতে সদা তৎপর থাকেন । প্রকৃত পক্ষে জেলখানা হল সংশোধনাগার । দেশের শান্তি ও নিরপত্তা রক্ষায় অপারাধিদের রাখার স্থান। কিন্তু ভূতুড়ে জেলখানা মানুষের তেজ বের করে অচলায়তনের  বাঁধা গতে আবদ্ধ রাখার কৌশল মাত্র । এ খানে অন্ন , বস্ত্র , বাসস্থান , শিক্ষা , সাস্থ্য না থাকলেও এর ফলে দেশ জুড়ে শান্তি বজায় থাকে । এভাবেই তীব্র শ্লেষ পূর্ন ভাষায় লেখক " কর্তার ভূত " গল্পে বর্ণিত জেলখানার বর্ণনা করেছেন ।



রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তপন সিংহের অবদান আলোচনা করো | Tapan Singher Obodan

 

বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তপন সিংহের অবদান আলোচনা করো | Tapan Singher Obodan

 

 

প্রশ্ন :- বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তপন সিংহের অবদান আলোচনা করো ।





উত্তর : বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে সুবর্ন রথের এক বর্ণময় সারথী তপন সিংহ । তিনি বহু আলোচিত , কিন্তু অনালোকিত । আসলে তপন সিংহ কে দেখার চোখ সেদিনের শিল্প বোদ্ধা দের ছিল না । কারণ , আমাদের শিল্প বোদ্ধ যেমন এক দেশ দশী , তেমনি যুক্তি ও শৃঙ্খলার । তাই তপন সিংহের মতো শিল্পীও আমাদের বিচারে গৌণ , অকিঞ্চিৎকর হয়ে পড়েছিলেন ।

[  ] ছাত্রবস্থা থেকেই দেশ বিদেশের চলচ্চিত্র ভক্ত তপন সিংহ । জীবনের প্রথম পর্বেই শিক্ষানবিশ হিসেবে পেয়েছিলেন বাণী দত্ত এবং বিমল রায়ের মতো পরিচালকের দীক্ষা তারপর লাভ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত পরিচালক জা রেনোয়ার সান্নিধ্য । তারপর " ক্যালকাটা মুভি টোন " এ শব্দ যন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে করতে লোগুন যাত্রা । সেখানে " সাউন্ড এফেকশন " নিয়ে ডিগ্রী লাভ করে চার্লস ক্রাইটনের সহকারী হওয়ার দুর্লভ সুযোগ লাভ । অন্তঃপর দেশে ফিরে আসা । এ খানে এসে " সৈনিক " নামের বিখ্যাত ছোটো গল্প নিয়ে তৈরী করেন প্রথম সিনেমা " অঙ্কুশ" । কিন্তু সিনেমাটি চূড়ান্ত ব্যর্থ হয় । কটূক্তি , বাঙ্গণতক সমালোচনায় তপন সিংহ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন । তারপর রবীন্দ্রভক্ত হিসেবে তিনি রবীন্দ্রনাথের আশ্রয় নেন । আর এই পথেই আসে সাফল্য । তার দ্বিতীয় সিনেমা " কাবুলিওয়ালা " দারুন ভাবে শুধু বাণিজ্য - সফলই হয় না । রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার এবং বার্লিন চলচ্চিত্রও পুরষ্কার লাভ করে । এরপর তিনি সিনেমার জগতে তৈরী করে ফেলেন নিজস্ব পরিচিতি ।

সতীর্থ সত্যজিৎ এবং হাদ্র ঋত্বিকের সঙ্গে তাঁর চলচ্চিত্র ভাবনার প্রধান পার্থক্য এই যে , তিনি নব্য তার ভাষা ও পরিশীলিত শিল্প টেকনিকের সঙ্গে এক পেশে আপস না করে এক অভিনব বিবর্তন রেখা অঙ্কন করতে চান । তিনি আজীবন বিশ্বাস করেছেন যে , সিনেমা যেহেতু একটা বাণিজ্য ব্যাবস্থা , তাই তাকে যদি সুন্দরের অভিযানে যেতেও হয় তবে সেই অভিযান কে বানিজ্য সমথিত হতেই হবে । যদি সিনেমা স্বয়ং শাসিত হয় ও , তবু তাকে গল্পের উপর নির্ভরশীল থেকে যেতে হবে । তবে সেই গল্প বলা হলিউডি মার্কা হবে না তা হবে আমাদের কথকতার ধরনের । তপন সিংহের ধারণা ছিল ছবির কোনো অধিকার ই নেই বিমূর্ত হওয়ার তাকে আলো শব্দ চিত্র দিয়ে বিচিত্র স্বাদের গল্প বুনে যেতে হবে । আসলে তপন সিংহের মধ্যে ছিল স্বদেশ্চিয়ানা বা বাঙালিয়ানার বিস্তৃত মনো পরিসর । তাই যে মধ্যবিত্ত দারিদ্র্য দু:খ  চেনে অথচ দিন্তামুক্ত , যে মধ্যবিত্ত শব্দের সোজন্য হৃদয়ের উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য আকুল  - তপন সিংহ তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করেন । তাই তো সৃষ্টি হয় " কাবুলিওয়ালা " " নির্জন সৈকতে" " হারমোনিয়াম " " গল্প হলেও সত্যি " " সাগিনা মাহাতো ' " সবুজ দ্বীপের রাজা "  ইত্যাদি সিনেমা ।

এই সিনেমা গুলি থেকেই বোঝা যায় তিনি মধ্যে সিনেমার পর্থিক নন বরং আমাদের ঐতিহ্য । মূল কাহিনী পর্থের ই এক সফল পদাতিক মধ্যপন্থী নন , বরং একটি সম্মাবস্থা তার শিল্পরা কথা বলে , কিন্তু কোলাহল করে না , তার চরিত্ররা সংলাপমুখোর ,

এ রকম অপ্রত্যাশিত কাহিনী নির্বাচন কে স্বা ভাবিক প্রত্যাশার মধ্যে বুনে দেওয়া যে কত বড়ো কৃতিত্ব তা আজ বাংলা ছবির পতিত ।






/>

শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

বিভাব নাটকে বর্ণিত প্রথম লভ সিনটি নিজের ভাষায় ব্যক্ত করো ।

 

বিভাব নাটকে বর্ণিত প্রথম লভ সিনটি নিজের ভাষায় ব্যক্ত করো ।

 




প্রশ্ন :- বিভাব নাটকে বর্ণিত প্রথম লভ সিনটি নিজের ভাষায় ব্যক্ত করো ।





উত্তর :- বাংলা তথা ভারতীয় নাট্য জগতে এক প্রবাদপ্রতিম ব্যাক্তিত্ব শম্ভু মিত্র । তার নাটক গণ্য নাট্য থেকে নব্য নাট্য , অ্যান্টি ড্রামা থেকে রাবীন্দ্রিক রূপকথা  সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছন্দ বিচনরণ করে । কিন্তু এ সবের পরেও তার নাটকে মূলত যা প্রতিফলিত হয় , তা হল জীবন এবং একমাত্র জীবন । আলোচ্য " বিভাব" নাটকটিও সেই ভাবনারই প্রতিচ্ছবি ।

হাসির নাটকে প্রেম - বিষয়ক নির্বাচন : নাটকে নাট্যকার ও চরিত্র শম্ভু মিত্র হাসির ভাব জাগিয়ে তোলার জন্য অমরের বাড়িতে আসে । উদ্দেশ্য হাসির নাটক তৈরি করে " বক্স অফিস " কাপানো । সেই উদ্দেশ্য চলে বিশেষ ভাব সংগ্রহের নাটকীয় আলোচনা । আলোচনায় উঠে আসে " পৃথিবীতে সবচেয়ে পপুলার জিনিস হচ্ছে প্রেম "। তাতে " হিউম্যান ইন্টারেস্ট " এবং " পপুলার অ্যাপিল " দুটোই আছে । সুতরাং তড়িঘড়ি একটা সিন অ্যারেঞ্জ করা হয় । দৃশ্যের পটভূমিও নির্বাচিত হয়  বৌদির ভাবনা অনুযায়ী । আবার , বৌদির পছন্দেই নায়কের রোল প্লে করে শম্ভু । আর নায়িকা তো নিশ্চিত ভাবেই বৌদি ।

লাভ সিনে জখমী সংঘটন : নায়ক নায়িকা নির্বাচন হয়ে গেছে । বেশ এবার সমগ্র দৃশ্যের নির্দেশনায় বৌদি একটা কাল্পনিক রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করে । মানে ব্যাপারটা হল নায়িকা কলেজ থেকে ফিরছে । উল্টো দিক থেকে শম্ভু মানে নায়ক কোনো অনির্দিষ্ট জায়গা থেকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে আসতে থাকে । ব্যাস স্বাভাবিক ভাবেই নায়ক নায়িকার পূর্ব নির্দিষ্ট নিশ্চিত ধাক্কা । নায়িকা রেগে উঠে স্বাভাবিক তেমন টাই হওয়া উচিৎ আর কি । নাট্য পরিকল্পনায় সেটাই তো ডিমান্ড । ফলত প্রচন্ড বিরক্তি আর তীব্র ঝাঁঝি দিয়ে নায়িকা বলে ওঠে - " কেয়া আপ দেখতে নেহি - চোখ খুলে চলতে জানেন না ?" নায়ক বেচারা একেবারেই গোবেচারা ফলত এই আকস্মিক মেজাজ খেয়ে আমতা আমতা করতে হয়  । আর তক্ষুনি সপাটে এক চর মারে নায়িকা । নায়ক বিমর্ষ, সিন জখমী হয়ে পড়ে ।


বলিউডি ভাব বিলাসিতা প্রেম : সিন যখন জখমী নায়ক যখন আহত তক্ষুনি অদ্ভুত সংঘটন ক্রিয়ায় একেবারে বিস্ময়কর ভাবে সম্পূর্ন বিপরীত ভাবাবেগে নায়িকা হয়ে পড়ে পূর্বাগাছন্ন । একেবারে ফিল্মি ঢংয়ে ন্যাকামির ভঙ্গিতে পঞ্চাশ ষাট দশকের বলিউড ঘরনায় । কল্পিত গাছের ডাল ধরে  হারমোনিয়াম সহযোগে প্লে ব্যাকের দৌলতে নায়িকা গান গেয়ে ওঠে - " ওই মালতিলতা দোলে " ।



বিশ্বভারতীর বংশদন্ডের ভয়ে লভ সিনের যবনিকা পতন : নায়িকা গান গায় - " মালতী লতা দোলে কিন্তু সেই গানের " দোলে" " দোলে " - এমন দুলিয়ে দিয়ে যায় যে বিশ্ব ভারতীর বংশ দন্ডের ভয়ে হৃদপিন্ড পর্যন্ত দুলে ওঠে ।

এ ভাবেই বৌদির উদ্ভাবনী প্রকল্পনা সত্বেও প্রথম লভ সিনকে ক্যানসেল করতে হলো ।









শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

কশ্যপ ও অলিপর্বার পরিচয় দাও । Keshob O Oliporbar Porichoy Dao

কশ্যপ ও অলিপর্বার পরিচয় দাও । Keshob O Oliporbar Porichoy Dao

 


প্রশ্ন :- কশ্যপ ও অলিপর্বার পরিচয় দাও ।


উত্তর: শ্রীগোবিন্দকৃষ্ণ মোদক বিরচিত বনগুতা গুহা পাঠাংশে কশ্যপ ও অলিপর্বা সহোদর দুই ভাই । তারা পারস্য দেশের অধিবাসী । সেই দেশের কোনো এক নগরে তাদের বসবাস । তাদের পিতা ছিলেন দরিদ্র । সামান্য কিছু সম্পত্তি তার ছিল যা দিয়ে সন্তানদের প্রতিপালন করেছিলেন । দুই সন্তানই তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল । মৃত্যুকাল আসন্ন দেখে নিজের সম্পত্তি দুই সন্তানের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেন । তিনি এও চেয়েছিলেন যে তারা যেন ধন সম্পদ অর্জনে সমান অবস্থা বজায় রাখতে পারে ।


[  ] কশ্যপ ছিল বড়ো । তার লক্ষ্য একটু উচ্চ । পিতা সাধারন সরল জীবনযাপনের অধিকারী হলেও কশ্যপ নিজেকে ধন সম্পদের অধিকারী করে তোলার জন্য উদগ্রীব ছিল । তাই সে কোনো এক ধনীর কন্যাকে বিবাহ করে । তারই সহায়তায় শীগ্রই নগরের শ্রেষ্ঠ বণিকদের মতো বিত্তশালী হয়ে ওঠে । তবে কশ্যপ পরিশ্রমী ছিল না বরং সর্বদা বিলাসের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতো । ভোগবিলাসের জীবনে তার কাছে কোন কিছুই অপ্রাপ্য ছিল না ।



[   ] ছোটো ভাই অলিপর্বা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির । পৈতৃক সম্পত্তিতে তার কোনো রকমে দিন কাটত । সে বিবাহও করেছিল এক গরীব বাড়ীর কন্যাকে । আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার জন্য সে এক কুঠিরে বসবাস করত । স্ত্রী ও সন্তান কে নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটত । তবে অলিপর্বার ছিল পরিশ্রমী । প্রত্যেহ ভোরে উঠে বনে যেত কাঠ কাটতে । সংগৃহিত কাঠ তিনটি গাধার পিঠে চাপিয়ে নগরে এনে বিক্রি করত । আর সেই অর্থে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করত ।  কশ্যপ ছিল লোভী , অলস , সার্থপর ও উচ্চাকাঙ্খী , অলিপর্বা ছিল সহজ সরল পরিশ্রমী নির্লোভ সৎ মানুষ ।








/>

মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী জীবনীমূলক রচনা । Upendra Kishore Ray Chowdhury

 

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী জীবনীমূলক রচনা । Upendra Kishore Ray Chowdhury

 

 

জন্ম ও পরিবার :
উপেন্দ্রকিশোরের জন্ম ১২৭০ বঙ্গাব্দের ২৭ বৈশাখ (১৮৬৩ সালের ১২  | ময়মনসিংহ জেলার বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে, যা অধুনা বাংলাদেশে অবস্থিত। তার পিতা কালিনাথ রায় ছিলেন সুদর্শন ও আরবি, ফারসি ও সংস্কৃতে সুপণ্ডিত। তার ডাকনাম ছিল শ্যামসুন্দর মুন্সী। উপেন্দ্রকিশোর শ্যামসুন্দরের আটটি সন্তানের মধ্যে তৃতীয় পুত্রসন্তান। তার পৈতৃক নাম ছিল কামদারঞ্জন রায়। পাঁচ বছরেরও কম বয়সে তার পিতার অপুত্রক আত্মীয় জমিদার হরিকিশোর রায়চৌধুরী তাকে দত্তক নেন ও নতুন নাম দেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা সাহিত্য জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পিতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। যদিও নবাব সিরাজ উদ দৌলার বংশধরদের সঙ্গে বাংলার বিখ্যাত রায় পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই।



শিক্ষা জীবন : মেধাবী ছাত্র বলে পড়াশোনায় ভাল ফল করলেও ছোটোবেলা থেকেই উপেন্দ্রকিশোরের পড়াশোনার থেকে বেশি অনুরাগ ছিল বাঁশী, বেহালা ও সঙ্গীতের প্রতি। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে উপেন্দ্রকিশোর প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি পান। তারপর কলকাতায় এসে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সী কলেজে।


সাহিত্যজীবন : একুশ বছর বয়সে বিএ পাস করে ছবি আঁকা শিখতে আরম্ভ করেন উপেন্দ্রকিশোর। এই সময় তিনি ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য হওয়ায় তার অনেক আত্মীয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য ঘটে। ছাত্র থাকাকালীনই তিনি ছোটোদের জন্যে লিখতে আরম্ভ করেন। সেই সময়কার সখা, সাথী, মুকুল ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত বালক নামে মাসিক পত্রিকাগুলিতে তার লেখা প্রকাশ হতে শুরু হয়। প্রথমদিকের (যেমন সখা, ১৮৮৩) প্রকাশিত লেখাগুলি ছিল জীববিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ। তার পরে চিত্র অলঙ্করণযুক্ত গল্প প্রকাশিত হতে আরম্ভ হয়। ১৮৮৬ সালে ২৩ বছরের উপেন্দ্রকিশোরের সঙ্গে বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ব্রাহ্মসমাজের দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম পক্ষের কন্যা বিধুমুখীর বিবাহ হয়, এবং তখনকার কলকাতার কর্নওয়ালিস স্ট্রীটের ব্রাহ্ম সমাজের মন্দিরের বিপরীতে লাহাদের বাড়ির দোতলায় কয়েকটি ঘর ভাড়া নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরেরর সংসার জীবন শুরু হয়। উপেন্দ্রকিশোরের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলেরা হলেন সুকুমার, সুবিনয় ও সুবিমল, এবং মেয়েরা হলেন সুখলতা, পুণ্যলতা ও শান্তিলতা। প্রত্যেকেই শিশু সাহিত্যে অবদান রেখেছেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা সুখলতা রায় ও জ্যেষ্ঠ পুত্র সুকুমার রায় উল্লেখযোগ্য।

যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে তার প্রথম বই "ছেলেদের রামায়ণ" প্রকাশিত হয়। এই বইটি সমাজে অতি আদরের সঙ্গে সমাদৃত হলেও মুদ্রণ সম্বন্ধে অতৃপ্ত উপেন্দ্রকিশোর ১৮৮৫ সালে বিদেশ থেকে তখনকার দিনের আধুনিকতম মুদ্রণযন্ত্রাংশাদি নিজের খরচায় আমদানি করেন, এবং ৭ নম্বর শিবনারায়ণ দাস লেনে নতুন ভাড়াবাড়ি নিয়ে ইউ রায় অ্যান্ড সন্স নামে নতুন ছাপাখানা খোলেন। এখানের একটি কামরায় তিনি নিজের আঁকার স্টুডিও খোলেন এবং সেখানে হাফটোন ব্লক প্রিন্টিং নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন। ১৯১১ সালে তিনি বড় ছেলে সুকুমারকে বিলাতে পাঠান ফোটোগ্রাফী ও মুদ্রণ সম্বন্ধে উচ্চশিক্ষা লাভ করার জন্যে।




মৃত্যু : ১৯১৫ সালের ২০শে ডিসেম্বর মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি পরলোক গমন করেন।




সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

আশাপূর্ণা দেবী জীবনীমূলক রচনা | Ashapurna Devi

 

আশাপূর্ণা দেবী জীবনীমূলক রচনা | Ashapurna Devi

 

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয় :

আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি (বাংলা ২৪ পৌষ, ১৩১৫) শুক্রবার সকালে উত্তর কলকাতায় মাতুলালয়ে। পিতার নাম হরেন্দ্র নাথ গুপ্ত এবং মাতা সরলাসুন্দরী দেবী । হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত ছিলেন কমর্শিয়াল আর্টিস্ট ; সেযুগের জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকাগুলিতে ছবিও আঁকতেন। তার রাজভক্তি ও রক্ষণশীলতার বিপরীতে অবস্থান করতেন মা সরলাসুন্দরী দেবী। সাহিত্যপাঠই ছিল তার জীবনের একমাত্র ‘পরমার্থ’। রাজনৈতিক আদর্শে ছিলেন কট্টর ব্রিটিশ-বিদ্বেষী স্বদেশী।

গুপ্ত-পরিবারের আদিনিবাস ছিল হুগলি জেলার বেগমপুরে। যদিও আশাপূর্ণা দেবীর জীবনের সঙ্গে এই অঞ্চলটির কোনও প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না। তার ছোটোবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতাতেই, ঠাকুরমা নিস্তারিনী দেবীর পাঁচ পুত্রের একান্নবর্তী সংসারে। পরে হরেন্দ্রনাথ যখন তার আপার সার্কুলার রোডের (বর্তমান আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোড) নিজস্ব বাসভবনে উঠে আসেন আশাপূর্ণার বয়স তখন সাড়ে পাঁচ বছর। কিন্তু বাল্যের ওই কয়েকটি বছর তার মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। পরবর্তীকালে সাহিত্যেও নানা ভাবে এঁকেছিলেন ‘দেহে ও মনে অসম্ভব শক্তিমতী’ তার সেই ঠাকুরমার ছবি।



শৈশব ও শিক্ষা : প্রথাগত শিক্ষার সৌভাগ্য আশাপূর্ণার হয়নি ঠাকুরমার কঠোর অনুশাসনে। পরবর্তীজীবনে এক স্মৃতিচারণায় এই প্রসঙ্গে আশাপূর্ণা বলেছিলেন, “...ইস্কুলে পড়লেই যে মেয়েরা... বাচাল হয়ে উঠবে, এ তথ্য আর কেউ না জানুক আমাদের ঠাকুমা ভালোভাবেই জানতেন, এবং তাঁর মাতৃভক্ত পুত্রদের পক্ষে ওই জানার বিরুদ্ধে কিছু করার শক্তি ছিল না।” তবে এই প্রতিকূল পরিবেশেও মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে দাদাদের পড়া শুনে শুনে শিখে গিয়েছিলেন পড়তে। বর্ণপরিচয় আয়ত্ত করেছিলেন বিপরীত দিক থেকে।[৫] মা সরলাসুন্দরী ছিলেন একনিষ্ঠ সাহিত্য-পাঠিকা। সেই সাহিত্যপ্রীতি তিনি তার কন্যাদের মধ্যেও সঞ্চারিত করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। সাধনা, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, সবুজপত্র, বঙ্গদর্শন, বসুমতী, সাহিত্য, বালক, শিশুসাথী, সন্দেশ প্রভৃতি ১৬-১৭টি পত্রিকা এবং দৈনিক পত্রিকা হিতবাদী তো বাড়িতে আসতই, তাছাড়াও সরলাসুন্দরী ছিলেন স্বনামধন্য বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, জ্ঞানপ্রকাশ লাইব্রেরি ও চৈতন্য লাইব্রেরির সদস্য। বাড়িতে সেযুগের সকল প্রসিদ্ধ গ্রন্থের একটি সমৃদ্ধ ভাণ্ডারও ছিল। এই অণুকূল পরিবেশে মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই পাঠ্য ও অপাঠ্য নির্বিশেষে পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করে দেন আশাপূর্ণা। পরবর্তী কালে এই বাল্যকাল সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “হিসেব মতো আমার ছেলেবেলাটা কেটেছে, সংসার ঊর্ধ্বের একটি স্বর্গীয় জগতে। বই পড়াই ছিল দৈনিক জীবনের আসল কাজ।”

১৯২৪ সালে, মাত্র ১৫ বছর ৮ মাস বয়সে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা কালিদাস গুপ্তের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।



আশাপূর্ণা দেবী রচিত গ্রন্থাবলি : সুবর্ণলতা , বকুলকথা , অগ্নিপরীক্ষা , গজ উকিলের হত্যা রহস্য , ভূতুরে কুকুর , শুক্তিসাগর , সুখের চাবি ,
বলয়গ্রাস , যোগবিয়োগ , নির্জন পৃথিবী , ছাড়পত্র , প্রথম লগ্ন , সমুদ্র নীল আকাশ নীল , উত্তরলিপি , তিনছন্দ , আর এক ঝড় , নদী দিক হারা , একটি সন্ধ্যা একটি সকাল , উত্তরণ , জহুরী , মায়াজাল ।




উল্লেখযোগ্য পুরস্কার

জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ,  রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমী ফেলোশিপ



মৃত্যু : ১৩ই জুলাই,১৯৯৫