মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ জীবনী মূলক রচনা

syed-mustafa-siraj-biography

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ জীবনী মূলক রচনা


জন্ম ও পারিবারিক পরিচয় :– সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ১৯৩০ খিস্টাবদের ১৪ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ জেলার খোশবাস পুর গ্রামে এক অভিজাত মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি এমন একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেখানে শিক্ষা এবং সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার একটা সুন্দর পরিবেশ ছিল । শুধু তাই নয় , আরবি , ফারসি , সংস্কৃত প্রভুতি ভাষার চর্চাও হত তার পরিবারে । লেখকের মা আনোয়ার বেগম ছিলেন একজন খ্যাতনামা কবি । সে কারনেই শৈশব থেকেই সিরাজ হৃদয় দিয়ে সাহিত্য রস আস্বাদন করতে শিখে ছিলেন । 

ছাত্রজীবন :– সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ১৯৪৬ খিস্টাবদে বর্ধমান জেলার " গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয় " থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন । বহরম পুর কৃষ্ণ নাথ কলেজ থেকে এরপর তিনি স্নাতক হন । স্কুলজীবন থেকেই বাইরের বই পড়ার আগ্রহ তৈরী হয় তার । 

কর্মজীবন :– যৌবনের শুরুতেই সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন । সেই সূত্রেই তিনি লোকনাট্য দল " আলকাপ " _ এর সঙ্গে যুক্ত হন  ১৯৫০ খিস্টাবদে । সেই দলে তিনি বাঁশি বাজাতেন  এবং লোকনাট্য ও লোক নৃতের প্রশিক্ষণ দিতেন । এই দলের সূত্রে তিনি গ্রামবাংলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান এবং সেইসব স্থানের সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গে পরিচিত হন । বঙ্গদেশের বিভিন্ন জেলা যেমন মুর্শিদাবাদ , মালদা , বর্ধমান , বীরভূম এমনকি কলকাতাতেও তিনি এই কাজের সুত্রে ঘুরে বেড়াতেন । ১৯৫৬ খিস্টাবদ পযন্ত সিরাজ আলাপ _ এর দলের হয়ে সারারাত্রিব্যাপী  অনুষ্ঠান করতেন । তার পরবর্তী জীবনের লেখালেখিতে এই অভিজ্ঞা প্রভাব ফেলেছে ।

[ ] পরবর্তীকালে সিরাজের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে । তিনি অনুভব করেন যে , তার চারদিকে আরও বড় পৃথিবী পড়ে রয়েছে । অবশ্য তিনি আগেই কবিতা এবং ছোটো গল্প লেখা শুরু করেন । ১৯৫০ খিস্টাবদে "ইবলিশ" ছদ্মনামে লেখা তার প্রথম গল্প " কাঁচি " প্রকাশিত হয় বহরমপুরের " সুপ্রভাত " পত্রিকায় । ওই একই বছরে " দেশ " পত্রিকায় " শেষ অভিসার " নামক কবিতা প্রকাশিত হয় তার । ১৯৬২ তে সাপ্তাহিক " দেশ " পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তার লেখা গল্প " ভালোবাসা ও ডাউন ট্রেন " । ১৯৬৪ খিস্টাবদে তিনি " ভান্ডার " পত্রিকায় যোগ দেন । এর পাশাপাশি গল্প লেখা চলতে থাকে তার । এরপর ১৯৬৬ খিস্টাবদে তার প্রথম উপন্যাস " নীল ঘরের নটি " প্রকাশিত হলে তিনি ক্রমে ক্রমে উপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন । ১৯৭১ – এ তিনি আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগ দেন ।
সাহিত্যকর্ম :– সারাজীবন ধরে তিনি ১৫০ টির মতো উপন্যাস এবং ৩০০ টির মতো ছোটগল্প লিখেছেন । এগুলির মধ্যে " ইন্তিপিসি ও ঘাটবাবু " , ভালোবাসা ও ডাউন ট্রেন , মানুষের জন্ম , রণভূমি , রক্তের প্রত্যাশা , মাটি – প্রভুতি ছোটো গল্প এবং অলীক মানুষ , কৃষ্ণা বাড়ি ফেরেনি , প্রভুতি উপন্যাস উল্লেখযোগ্য । 

[] সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ডিটেকটিভ চরিত্র " গোয়েন্দা কর্নেল "  । এই চরিত্রটি নিয়ে তিনি শিশু ও কিশোর – কিশোরীদের জন্য যেসব গোয়েন্দা – কাহিনী রচনা করেছেন , তা তাকে খ্যাতির তুঙ্গে নিয়ে যায় ।



সম্মান ও স্বীকৃতি :– সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বহু পুরষ্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন । ১৯৭৯ খিস্টাবদে তিনি পান " আনন্দ পুরস্কার " । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস " অলীক মানুষ " _এর জন্য তিনি " বঙ্কিম পুরষ্কার " " এবং " সাহিত্য আকাদেমি পুরষ্কার " লাভ করেন । তিনি নরহরি দাস পুরষ্কার পান । ২০১০ _ এ তিনি পান বিদ্যাসাগর পুরষ্কার ।


জীবনাবসান :– ২০১২ সালে ৪ সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে এই পন্ডিত সাহিত্যিকের মৃত্যু হয় । সত্বন্ত্র ধারার কথাসাহিত্যিক হিসেবে এবং গোয়েন্দা কর্নেল চরিত্রের শ্রেষ্ঠা হিসেবে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

/>